আর নয় দুশ্চিন্তা : ডা. শামসিয়া ওসমান

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে তারা সহজেই মৌসুমি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবটা শিশুদের শরীরের ওপর বেশি পড়ে। গরমের সময় কী করলে শিশুরা ভালো থাকবে এ নিয়ে মা-বাবা কিংবা অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে কিছু নিয়ম-কানুন ও স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি মেনে চললে গরমেও ভালোভাবে শিশুর যতœ নেওয়ার পাশাপাশি জটিলতা এড়ানো যায়।

পানিস্বল্পতা

প্রচণ্ড গরমের শিশু ডিহাইড্রেশন বা পানিস্বল্পতায় পড়তে পারে। বমি, ডায়রিয়া বা দুটিতেই আক্রান্ত হলেও শিশুর পানিস্বল্পতা হতে পারে। মৃদু বা মাঝারি ধরনের পানিশূন্যতায় জিব শুষ্ক হয়, কাঁদলে চোখ দিয়ে সামান্য পানি পড়ে, হার্ট রেইট বেড়ে যায়, ছয় থেকে আট ঘণ্টায় একবারও প্রস্রাব হয় না, অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

যা করণীয়

:: অল্প পানিশূন্যতা দেখা দিলে বাসাবাড়িতে রেখেই পানিশূন্যতা সারিয়ে তোলা যায়। এ জন্য বারবার অল্পস্বল্প তরল খাবার বা পানীয় খাইয়ে যেতে হবে।

:: প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট অন্তর বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো এক-দুই চামচ করে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

জ্বর

শিশু বয়সে সাধারণ একটি রোগ জ¦র। গরমের সময়ও শিশুদের জ¦রের হার বাড়ে। তবে শিশু যদি খেলাধুলা করে, ভালোভাবে খেতে পারে, পানীয় বা মায়ের দুধ পান করতে সক্ষম হয়, ত্বকের রং স্বাভাবিক থাকে, যদি হাসি-খুশি ভাব থাকে এবং জ্বর কেটে গেলে তাকে স্বাভাবিক দেখায় তবে বুঝতে হবে, এ জ¦র তেমন মারাত্মক নয়।

যা করণীয়

:: জ¦রের শুরুতেই প্যারাসিটামল খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। দুই মাস নিচের বয়সী শিশুদের জ¦রের সিরাপ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দুই বছরের বেশি হলে জ¦রের সাসপেনশন (এসিটামিনোফোন) খাওয়ানো যেতে পারে। তিন মাস থেকে তিন বছর বয়সে যদি জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি থাকে এবং এর চেয়ে বড় শিশুর ক্ষেত্রে শিশুর আচরণে কষ্ট পাচ্ছে মনে হয়, তবে প্যারাসিটামল শুরু করা উচিত।

:: জ¦র কমাতে গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে শিশুর পুরো শরীর স্পন্স করে দিন। আইসপ্যাক, ঠাণ্ডা পানি বা অ্যালকোহল ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে পরবর্তী সময়ে জ¦র বেড়ে যায়।

:: পাতলা ও ঢিলাঢালা পোশাক পরান। খেয়াল রাখতে হবে, ঘরের তাপমাত্রা যেন অধিক উত্তপ্ত বা শীতল না হয়।

:: বেশি বেশি তরল খাবার ও পানীয় খাওয়ান, যাতে সে পানিস্বল্পতায় না পড়ে। যেমন স্যুপ। তবে চা, কফিযুক্ত পানীয় নয়।

:: জ¦রের সঙ্গে বমি, পাতলা পায়খানা থাকলে মুখে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এই সময় আপেল জুস বা ফলের রস নয়।

সর্দি-কাশি-নিউমোনিয়া

ভাইরাস সংক্রমণ ছাড়াও গরমে শিশুর সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়া হওয়া বেশ স্বাভাবিক ঘটনা। এ জন্য বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

যা করণীয়

:: সর্দি হলে নাক বন্ধ হয়ে যায় বলে ‘নরসল’ জাতীয় ড্রপস নাকে দিয়ে ঘুমানো ও খাওয়ানোর আগে ব্যবহার করা ভালো। অথবা হালকা গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পরিষ্কার নরম কাপড়ে ভিজিয়ে নাকে দেয়া যায়।

:: মৌসুমি ফল, বিশেষ করে তরমুজ, ডাব, আনারস, পেয়ারা, কামরাঙা, কাঁঠাল, আম ইত্যাদি খেতে দিন।

:: কাশি হলে কাশির সিরাপ খাওয়াবেন না। কারণ এর কোনো উপকারিতা নেই; বরং জটিলতা তৈরি হতে পারে।

:: কাশি হলে ছোট শিশুদের লেবুর রস মেশানো গরম পানীয়, তুলসীপাতার রস ও একটু বড় শিশুদের লিকার চা দেওয়া ভালো।

ঘামাচি বা প্রিকিল হিট

গরম ও ভাপসা আবহাওয়ায় শিশুরা প্রায়ই ঘামাচিতে কষ্ট পায়। বেশি ঘেমে সংশ্লিষ্ট গ্ল্যান্ডগুলোর নালিমুখ বন্ধ হওয়ার ফলে ঘামাচির সৃষ্টি হয়। সাধারণ ঘামাচি দেহের বড় অংশজুড়ে থাকে। কখনো বা ঘামাচি লাল লাল গোটার মতো শিশুর ঘাড়ে, গলায়, পিঠে, বুকে ওঠে, যা কখনো কখনো ছত্রাকজাতীয় জীবাণুর সংক্রমণ বা চামড়ার অন্যান্য কিছু অসুখ বলে ভ্রম হতে পারে। কখনো বা ঘামাচি পেকে গিয়ে পুঁজের আধার রূপে প্রকাশ পায়।

যা করণীয়

:: ঘামাচি প্রতিরোধে শিশুকে যতটা সম্ভব ঠাণ্ডার মধ্যে রাখা উচিত।

:: নাইলনের পোশাক পরানো বা রাবার ও প্লাস্টিকের সিটের ওপর শোয়ানো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

:: রুমের তাপমাত্রা যাতে অস্বাভাবিক বেশি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

:: বারবার শিশুর গা ঠাণ্ডা পানিতে মুছিয়ে দিলে ঘামাচির বেশ উপকার হয়।

হিটস্ট্রোক

অত্যাধিক গরমে শিশু অসুস্থ হয়ে যায়। গরমজনিত ক্লান্তি শুরু হয় আস্তে আস্তে; কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তা স্ট্রোকে পরিণত হয়। হিটস্ট্রোকে শিশুর তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ সময় ত্বরিত মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনা না নিলে হঠাৎ মৃত্যুও ঘটতে পারে।

হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে শিশুটির তীব্র মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, দ্রুত শ্বাস ও হৃৎস্পন্দন, জ্ঞান হারানো, কোমা, খিচুঁনি, ত্বক শুকনো, গরম, তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে।

যা করণীয়

:: গরমজনিত কারণে হিটস্ট্রোক হলে তাড়াতাড়ি শীতল স্থানে বা ছায়ায় নিয়ে আসুন।

:: শরীর থেকে কাপড়চোপড় খুলে দিন, পাখার বাতাস করুন বা ফ্যান ছেড়ে দিন।

:: পায়ের দিক উঁচু করে রেখে শিশুকে শুইয়ে দিন।

:: জ্ঞান ঠিক থাকলে ঠাণ্ডা পানিতে শরীর মুছে দিন।

:: ঠাণ্ডা, পরিষ্কার, তরল বা পানীয় খেতে দিন।

:: শিশু যদি বমি করতে থাকে, তাকে এক পাশ করে রাখুন, যাতে বমি শ্বাসনালিতে চলে না যায়।

:: হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে তৃষ্ণার্ত না থাকলেও শিশুকে গরমের দিনে প্রচুর পানি, তরল খাবার বারবার খাওয়াতে থাকুন।

:: শিশুর পরিধেয় বস্ত্র যাতে সুতি কাপড়ের, হালকা ও ঢিলেঢালা ধরনের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

:: দিনের সবচেয়ে তপ্ত সময়ে শিশু যেন বাইরে বেশি খেলাধুলা না করে, সেটা খেয়াল রাখুন।

:: হিটস্ট্রোকে বেশি সমস্যা মনে হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ

নারীর প্রিয় বাহন স্কুটিগত এক দশকে প্রজন্মের বাহন হিসেবে মোটর সাইকেলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে কয়েক গুণ। চলতি পথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ও গতিময়তার সম্মিলনে প্রিয় বাহন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে মোটর সাইকেল। বর্তমানে কোথাও যেতে হলে পোহাতে হয় যানজটের ঝক্কি, তার ওপর সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না, আর পেলেও প্রায়ই গুনতে হয় ডাবল ভাড়া। ফলে অফিস কিংবা গন্তব্যে যেতে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়, পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। এ সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে নিজের একটি বাহন এখন বেশ দরকারি। তাই পুরুষের পাশাপাশি আধুনিক অনেক নারীরই বাহন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন পছন্দসই একটি মোটর সাইকেল। এ ক্ষেত্রে স্কুটিই এখন অনেক নারীর প্রথম পছন্দ-

Bhorerkagoj