৬ মাস পর ডিএসই থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে সরকারের

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এর আগে টানা ৬ মাস ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব কমেছিল। জানুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব বেশি পেয়েছে। জানুয়ারির তুলনায় লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এ খাত থেকে কর বেশি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে মোট ২০ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। তাতে বিনিয়োগকারীদের ৪৫৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৬টি শেয়ারের কেনাবেচা বাবদ ১২ হাজার ৪২৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৭ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। জানুয়ারিতে লেনেদেন হয়েছিল ৮ হাজার ৭২ কোটি ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৬১২ টাকা। সে মাসে ২৯০ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯টি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ায় উদ্যোক্তা-পরিচালকে শেয়ার বিক্রি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী অর্থাৎ দুই প্রকার বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রি বাবদ ডিএসইর রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৭ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতে লেনদেন হয়েছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭২ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সরকার ডিএসইতে থেকে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭২ হাজার ৪৬০ টাকার রাজস্ব বেশি পেয়েছে। দুই প্রকার রাজস্ব আদায়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন অর্থাৎ টার্নওভার ট্যাক্স বাবদ লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ৬১ হাজার ৯৬ টাকা। আর উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৬ টাকা।

এর আগের মাস জানুয়ারিতে টার্নওভার ট্যাক্স বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৭ টাকা। আর উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৫ টাকা। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে উদ্যোক্ত-পরিচালক এবং বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৫ টাকার রাজস্ব আদায় করেছিল ডিএসই। কিন্তু তারপর আগস্টে অর্ধেকের বেশি রাজস্ব কমে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকায়। এর পরের মাস সেপ্টেম্বর ১৫ কোটি টাকার বেশি আদায় হয়, কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসকে ছুঁতে পারেনি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহত দরপতন থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আস্থা তারল্য সংকট দূর করতে ১২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর তাতে গত জানুয়ারি মাস থেকে লেনদেন বাড়তে থাকে। তার প্রভাবে লেনদেন খরা পুঁজিবাজারে হঠাৎ করেই ৩০০ কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন থেকে বেড়ে ১ হাজার কোটি টাকাও দৈনিক লেনদেন হয়েছে।

আর তাতে ছয় মাস পর ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj