দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য : বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। ‘স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য’ নামেই পরিচিত এটি। খ্যাতিমান শিল্পী মুর্তজা বশির একক প্রচেষ্টায় এ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ৪টি আবাবিল পাখির প্রতীকী নির্মাণে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালী জাতির ৬ দফা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমধারা। পাখির ডানায় একুশটি পাথরের টুকরোয় লিপিবদ্ধ আছে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের কাহিনী। ভাস্কর্যটির মূলভিত্তি রচিত হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলার ওপর। এর কাজ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। ১৯৮৫ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। শিল্পী মুর্তজা বশির তখন চবির চারুকলা বিভাগে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের হুমকির মুখে এটি শেষ পর্যন্ত কলা অনুষদের সামনেই স্থাপন করা হয়।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ : দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায়ে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে হানাদার বাহিনী। দেশকে মেধাশূন্য করতে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে রাজাকার-আলবদররা। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় এ স্মৃতিস্তম্ভ। প্রথিতযশা শিল্পী রশিদ চৌধুরী এর নকশা প্রণয়ন করেন। বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮৫ সালে। কেরন গাছের পরিবেষ্টনে চত্বরটি বর্তমানে বিভিন্ন উৎসবের মিলনকেন্দ্র।

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ‘স্মরণ’ : মহান মুক্তিযুদ্ধে চবি পরিবারের ১৫ জন জীবন দান করেন। তাদের মধ্যে সাতজনের স্মৃতি রক্ষার্থে গত বছরের ৫ নবেম্বরে চবির প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’। যাদের স্মরণে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে চবি থেকে একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বীরপ্রতীক শহীদ মো. হোসেন, প্রকৌশল দফতরের প্রভাত কুমার বড়ুয়া, চাকসু জিএস ইতিহাস বিভাগের ছাত্র শহীদ আবদুর রব, একই বিভাগের ছাত্র ফরহাদ-উদ-দৌলা, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, অর্থনীতির নাজিম উদ্দিন খান এবং প্রহরী সৈয়দ আহমদ। স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’-এর শিল্পী হচ্ছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ সাইফুল কবীর।

বিজয়ের গৌরবগাথা ‘স্বাধীনতা স্মৃতি’ : বাঙালি জাতির বিজয় অর্জনের ধারাবাহিক ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটি ম্যুরাল চিত্র। ‘স্বাধীনতা স্মৃতি’ শীর্ষক ম্যুরালটির উন্মোচন হয় ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ। প্রথম ম্যুরালের উপরের অংশে আছে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং নিচে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের চিত্র, আসাদের রক্তমাখা শার্ট, শোকের কালো পতাকা এবং শোকাহত মানুষের ঢল। এ ছাড়াও বাকি চারটি ম্যুরালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরেন শিল্পী সাইফুল কবীর। কলা অনুষদের সামনে স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে ম্যুরালটি তৈরি করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শাবাশ বাংলাদেশ : ‘শাবাশ বাংলাদেশ-এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়’। ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ নামের একটি অসাধারণ ভাস্কর্যে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা ওই কটি লাইন আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হায়েনাদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি উত্তরাঞ্চলের প্রধান বিদ্যাপীঠ। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে মতিহারের এই সবুজ চত্বর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক শিক্ষক-ছাত্র শহীদ হওয়ায় এর স্মৃতিকে চির অ¤øান করে রাখার জন্য উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফলক উন্মোচন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ভাস্কর্যটি দাঁড়িয়ে আছে ৪০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে, যেখানে রয়েছে দু’জন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি। একজন রাইফেল উঁচু করে দাঁড়িয়ে আর তার বাঁ বাহুটি মুষ্টিবদ্ধ করে জাগানো। অন্যজন রাইফেল হাতে দৌঁড়ের ভঙ্গিতে রয়েছে; যার পরনে প্যান্ট, মাথায় এলোমেলো চুলের প্রাচুর্য যা কিনা আধুনিক সভ্যতার প্রতীক। এ দু’জন মুক্তিযোদ্ধার পেছনে ৩৬ ফুট উঁচু একটি দেয়ালও দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের উপরের দিকে রয়েছে একটি শূন্য বৃত্ত, যা দেখতে সূর্যের মতোই। ভাস্কর্যটির নিচের দিকে ডান ও বাম উভয় পাশে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট উঁচু দুটি ভিন্ন চিত্র খোদাই করা হয়েছে। ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে দু’জন যুবক-যুবতী। যুবকের কাঁধে রাইফেল, মুখে কালো দাড়ি, কোমরে গামছা বাঁধা, যেন বাউল। আর যুবতীর হাতে একতারা।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj