ভূতু কুতু আর তুমি

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

অদ্বৈত মারুত

ভূতু আর কুতু। করে গুঁতোগুঁতু। ভূতু খায় জুতু। ডেকে নেয় কুতু। গানের তালে নাচে। ইশকুলে যায় বাসে। কুতু খায় ভাত। ঘুম পেলে কাত- বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লে তুমি। ঘুম, ঘুম আর ঘুম।

হঠাৎ মটু ভূতু এলো। চিকু ভূতু এলো। ওরা ঘুম ভাঙাল। দুই ভূতু বসে আছে। কী সুন্দর তাদের হাত! লোমে ভরা। নখগুলো বড় বড়। দাঁতও। একটুও ভয় পেলে না তুমি। মনে মনে বললে, ভয়ের কী আছে? উহু, আমি যদি ভূতুদের মতো বড় হতে পারতাম! ইয়াব্বড়! খুব মজা হতো।

ওমা, সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়ে গেলে! দুই ভূতুর সমান বড়। ওদের মতোই হাত। ওদের মতোই পা। ওদের মতোই দাঁত। ওদের মতোই চোখ! লোমে ভরে উঠেছে তোমার শরীর!

তুমি মনে মনে বললে, বাহ্, দারুণ তো!

ভূতুরা তোমাকে দাঁত ব্রাশ করাল। ভাত খেতে দিল। খেয়েদেয়ে তোমাকে নিয়ে ওরা পাহাড়ে গেল। কত উঁচু রে বাবা! তোমাকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাবে।

হাঁটায় মজা বেশি- চিকু ভূত বলল। আরো বলল, সামনে তাকিয়ে হাঁটো। পেছনে তাকিও না। তুমি এক পা, দু-পা করে হাঁটলে। হাঁটতে গিয়ে তুমি কি ভয় পেয়ে গেলে? পেছনে যে তাকাতে চাইলে!

মনের কথা বুঝে নিল মটু ভূত। বলল, আমরা অনেক ওপরে উঠে এসেছি। ধরো, মাটি থেকে কয়েক হাজার ফুট ওপরে। আরো ওপরে তোমাকে নিয়ে যাব। একেবারে চূড়ায়। তোমাকে আর হাঁটতে হবে না।

চিকু ভূত পিঠে তুলে নিল। তুমি উড়ে উড়ে গেলে। মেঘের ভেতর দিয়ে। পাতলা পাতলা মেঘ। ঘন ঘন মেঘ। শরীর ভিজতে লাগল। শীত শীত করতে লাগল।

বললে, ইশ রে, সোয়েটার নিয়ে এলেই হতো! অমনি সোয়েটার গায়ে জড়িয়ে দিল মটু ভূতু। বলল, তোমার শীত লাগতে পারে। তাই ইশকুল ব্যাগ থেকে তুলে নিয়েছি। সোয়েটার তো তুমি ইশকুল ব্যাগেই রেখেছিলে।

তুমি মটুকে ধন্যবাদ জানালে।

মেঘ তো তুমি ভালোবাসো। সেদিন ম্যাডাম যখন মেঘের কথা বলল, তোমার তখনই মেঘ ছুঁতে মন চাইল। পারলে না। কারণ ভূতুদের সঙ্গে তোমার তখন আলাপই হয়নি!

মেঘরা তোমার মন বুঝে নিল। সাদা পর্দায় ভেসে উঠলে তুমি। যা ভাবলে, সব ওরা পড়ে নিল। ওরা তোমাকে বসতে দিল। আদর করল। উহু, তোমার খুব খিদে পেয়েছিল তখন। তবে খেতে চাইলে না। শুধু পানি চাইলে। পান করাল। কী যে ভারি মিষ্টি পানি! আবার ঘুম পেল তোমার!

মটু ভূতু বলল, এই যে, ঘুমিও না। ঘুমালে দেখবে কী করে? আমরা যে তোমার সব চাওয়া পূরণ করতে চাই।

তুমি বললে, আমার যে অনেক কিছু দেখতে মন চায়, তা বুঝলে কেমন করে?

ভূতুরা বলল, আমরা তোমার ইশকুলেই থাকি। ক্লাসে ক্লাসে ঘুরি। ভাবুকদের পছন্দ করি। ম্যাডামের পড়া তুমি মনোযোগ দিয়ে শোনো। শুনে শুনে ভাবতে থাকো। ঘুরতে চাও। উড়তে চাও। ফিঙেপাখির মতো নাচতে চাও। তোমার সব মনের কথা আমরা জানি।

তুমি তখন হাসলে। হাসতে হাসতে খাটে গড়াগড়ি খেলে। আম্মু এলো বলেই না রক্ষে! নইলে তো ধপাস!

দুহাতে চোখ ডলে পিট পিট করে তাকালে। দেখলে আম্মু দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে কাঁপছে। ভূতু, মেঘ, পাহাড়, বরফের কথা মনে পড়ল তোমার।

চোখ বুজলে। ঘুমালে না। ভূতুরা এলো। তুমি ওদের ধন্যবাদ জানালে। ওরাও তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, খাওয়ার সময় খাবে, খেলার সময় খেলবে, পড়ার সময় পড়বে। তবেই ভূতুর পিঠে চড়তে পারবে যখন তুমি চাও, তখন।

মটু ভূতু হাসি দিয়ে বলল, বিদায় বন্ধু।

চিকু ভূতও হা-হা-হা করতে করতে বলল, আজ তবে যাই বন্ধু। আবার দেখা হবে বলে ওরা দুজন চলে গেল। তুমি আবার ভাবতে বসলে। কত্ত ভাবনা মনে তোমার!

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj