মাশরাফির নেতৃত্বের অধ্যায় সমাপ্ত

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

বিশ্বকাপে মাত্র ১ উইকেট পেয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন মাশরাফি। বিবর্ণ বিশ্বকাপের পর অধিনায়ক মাঠে ফেরেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে। ৩ ম্যাচে পেয়েছেন ৪ উইকেট। প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। যদিও তার বলে ক্যাচ ছেড়েছিলেন ফিল্ডাররা। শেষ ম্যাচে পকেটে পুরেছেন এক উইকেট। ৬.০৪ স্ট্রাইক রেটে ৩৩.৫০ গড়ে ৩ ম্যাচে ১৩৪ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। পারফরম্যান্স আহামরি ভালো না হলেও দীর্ঘদিন পর মাঠে যে নিবেদন দেখিয়েছেন তা চোখে পড়েছে প্রত্যেকের। শেষ ম্যাচ দিয়ে ছেড়েছেন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফির অবদান কতটা সেটি জানাতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ২০১৪ সালে যখন তাকে অধিনায়ক করা হয়, একটা বিশেষ কারণেই করা হয়েছিল। সে স্কোয়াডে ছিল না। চোটের কারণে খেলার বাইরে ছিল। স্কোয়াডের বাইরে থেকে একজনকে এনে অধিনায়ক করার একটা বিশেষ কারণ ছিল। তার ওপর দায়িত্ব ছিল, আস্থা ছিল, বিশ্বাস ছিল। সে জন্যই তাকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। সেও অসাধারণ কাজ করেছে।

বাংলাদেশ দল যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছে বা ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বহুদিন ধরেই শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে সাতে আছে, এর পেছনে মাশরাফির অবদানকে বড় করে দেখছেন বোর্ড সভাপতি। নাজমুলের ধারণা, বাংলাদেশ যে ওয়ানডেতে এখন ভয় জাগানো দলের পেছনে মাশরাফির উপস্থিতি ভূমিকা রেখেছে, যতজন যা-ই করেছে, যে সাফল্য এসেছে তাকে ছাড়া সম্ভব হতো না। সে দারুণ কাজ করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেও এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি মাশরাফি। ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বরং নিজের প্রত্যয়ের কথাই জানিয়েছেন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ সংবাদ সম্মেলনের প্রথম কথা, ‘ভালো লাগছে। মুখে হাসিতেও যেন সেই ভালো লাগার প্রকাশ। ভারমুক্তির স্বস্তি। চাপ মুক্তির অনুভূতি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সাড়ে ৫ বছর অধিনায়কত্ব করা মানে দীর্ঘ এক যুদ্ধ। শরীর আর মনের নিত্য ধকল। অবশেষে সেই লড়াইয়ে ক্ষান্তি। এবার নির্ভার হয়ে কিছুদিন খেলে যাওয়ার পালা। সেখানে চ্যালেঞ্জ আছে বটে। তবে বন্ধুর পথচলাতেই মাশরাফি খুঁজে নিচ্ছেন আনন্দ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে দিয়ে শেষ হয়ে গেছে মাশরাফির নেতৃত্বের অধ্যায়। এবার স্রেফ ক্রিকেটার হিসেবে দলে জায়গা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।

তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন নিশ্চিতভাবেই গোধূলিবেলা। তবে ডুবে যাওয়ার আগে এই সময়টুকুই তিনি করতে চান দীর্ঘায়িত। শেষবেলায়ও তেজোদীপ্ত বিকিরণে আলোকিত করতে চান দেশের ক্রিকেট। অধিনায়ক হিসেবে যে ১০২টি উইকেট নিয়েছেন, এর ৭২টিই দলের জয়ের ম্যাচে। বোলার মাশরাফি গতির সীমাবদ্ধতা পুষিয়ে দিয়েছেন দারুণ সব কাটার, ছোট ছোট সুইং, সিমে হিট করা, আঁটসাঁট লাইন লেংথ, গতি বৈচিত্র্য, ব্যাটসম্যানকে পড়তে পারার ক্ষমতা আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দিয়ে। নিন্দুকেরা অধিনায়কত্ব কোটার অযাচিত গীত গেয়েছেন বটে। এমনকি বোর্ড সভাপতিও বেশ কয়েকবার নেতা মাশরাফির বিশালত্ব বোঝাতে গিয়ে ছুঁতে পারেননি বোলার মাশরাফির গভীরতা।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে অবসর পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নতুন অধিনায়কের যেসব গুণাবলি থাকতে হবে সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন মাশরাফি-বিন মর্তুজা। সাধারণত এ সময়ে কারো ভালো লাগে, কারো খারাপ লাগে। আমার দুটোই মনে হচ্ছে। নিজের কাছে ভালো লাগার কারণ অধিনায়ক হিসেবে একটি ভালো জায়গায় শেষ করতে পেরেছি। আর জয় দিয়ে শেষ হয়েছে, এটাও ভালো লাগছে। নতুন অধিনায়কের গুণাবলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন অধিনায়কের অনেক কাজ। খেলোয়াড়দের খুবই ডিস্ট্রার্ব হয় পারিবারিকসহ বিভিন্ন দিক থেকে। যেটা ওর পছন্দ না, সেটা বারবার সামনে আসতে পারে। কোচের সঙ্গে সমন্বয় না হতে পারে। ফিটনেসে সমস্যা থাকতে পারে। সে সময় একজন অধিনায়ক পাশে থাকে। পুরো টিমের দায়-দায়িত্ব নেয়। যে যতই খারাপ করুক, খারাপ বলুক। অধিনায়ক সব সময়ই ঠাণ্ডা মাথায় দায়িত্ব তুলে নেন। তিনি আরো বলেন, অধিনায়ক হিসেবে নতুন যিনি আসবেন, তার চিন্তা-চেতনাকে ৩ গুণ বেশি বাড়াতে হবে। কেননা, জেতা অনেক সহজ। হারলে বোর্ড, মিডিয়া সবকিছুকে ক্যারি করতে হবে। একজন সফল অধিনায়ক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অধিনায়কত্বের মূল কারণ ৫০টা জয়ই। এছাড়া নিজেকে কখনো আলাদা করে মূল্যায়ন করিনি। সিরিজটা তিন-শূন্যতে জেতায় ভালো হয়েছে। কোনো একটায় ¯িøপ করলেই মজাটা নষ্ট হয়ে যেত। ক্রিকেট নিয়ে মাশরাফির আবেগ বরাবরই একটু বেশি। এই অঙ্গন ছেড়ে যাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। তবুও তাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরে যেতে হলো। দেশের ক্রিকেটে এখন থেকে তিনি সাবেক অধিনায়ক।

:: তাইসির আদীব নূর

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj