জানা অৎানা : ওয়াটার পোলো

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

ওয়াটার শব্দের অর্থ পানি (জল)। ওয়াটার পোলো পানিতে অনুষ্ঠিত এক ধরনের খেলা যা বল সহযোগে দলগতভাবে খেলা হয়। ওয়াটার পোলো এক প্রকার দলগত ক্রীড়া। দুই দলের মধ্যে এ খেলায় প্রতিদ্ব›িদ্বতা হয়।

ওয়াটার পোলো অন্যান্য কঠিন খেলার মধ্যে ৫ নম্বর খেলা। এ খেলায় এক এক দলে ৬ জন করে খেলোয়াড় অংশ নেয়। এ খেলাটি ১.৮মিটার গভীর পানির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উনিশ শতকের শেষের দিকে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ওয়াটার পোলো খেলার প্রচলন শুরু হয়- যা পরবর্তী সময়ে ১৯০০ সালে আধুনিক অলম্পিকে পুরুষদের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওয়াটার পোলো একটি জনপ্রিয় খেলার নাম। উনিশ শতকের একেবারে শেষের দিকে ব্রিটেনের প্রথম বাথ মাস্টার ডরষষরধস ডরষংড়হ ওয়াটার পোলো খেলার নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়াটার পোলো খেলার সঙ্গে হ্যান্ডবল খেলার মিল পাওয়া যায়। হ্যান্ডবল খেলার মতো হাতে পাস আর বল শুটের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে স্কোর করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে ওয়াটার পোলোর খেলোয়াড়রা। খেলায় সাঁতার, এগবিটার কিক যা পায়ের তলায় চাপ প্রয়োগের সাহায্যে পানির উপরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বল ধরা কিংবা বিপক্ষের গোলি বা গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে জালে প্রবেশ করা এ খেলার অন্তর্ভুক্ত। খেলোয়াড়রা বিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে সর্বাধিক গোল করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায়। প্রতিপক্ষের জালে পাঠানো সর্বাধিক গোল করার মাধ্যমে খেলার জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হয়। ওয়াটার পোলো এক প্রকার দলগত খেলা। দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রত্যেক দলে ৪ জন ড্রাইভার, ১ জন ফ্লোটার ব্যাক ও ১ জন ফ্লোটারসহ ৬ জন মাঠ খেলোয়াড় এবং ১ জন গোলরক্ষকসহ সর্বমোট ৭ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়ে থাকেন। ওয়াটার পোলো খেলার দুই দলেই থাকে ১৩ জন করে খেলোয়াড় যার ৭ জন থাকে পুলে। একজন গোলরক্ষক ছাড়া বাকি ৬ জন ফিল্ড বা পুলের প্লেয়ার থাকে। পুলের দৈর্ঘ্য ২০ মিটার (মহিলা), ৩০ মিটার (পুরুষ) প্রস্থ ১৭ মিটার। পুলের গভীরতা হবে কমপক্ষে ১.৮ মিটার বা তার বেশি। খেলার উপকরণ হিসেবে থাকে ওয়াটার পোলো বল, কেপ গোলপোস্ট যা পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। সুইমিং (বল ছাড়া/সহ), এগবিটার কিক, থ্রোয়িং, ক্যাচিং, শুটিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের গোলবারে বল পৌঁছে দেয়ায় খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য থাকে। গোলকিপার ছাড়া বাকি সবাই অফেন্সিভ ও ডিফেন্সিভ খেলতে পারে আর গোলরক্ষক প্রতিপক্ষের শুটিং হতে তার গোলবার রক্ষা করে। খেলা শেষে যে দলের স্কোর বেশি থাকে সে দল বিজয়ী হয়ে থাকে। নির্ধারিত সময় শেষে যদি খেলাটাই হয় তবে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

ওয়াটার পোলো যেহেতু পানির খেলা তাই প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ভালো সাঁতারু এবং বল হাতে রাখতে আত্মস্থ হতে হয়। তাদের ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। খেলা চলাকালীন খেলোয়াড়কে অবশ্যই পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকতে হয়। তারা পুল বা ক্ষুদ্র জলাশয়ে দাঁড়াতে পারবে না। পানির গভীরতা ২ মিটারের ঊর্ধ্বে, দৈর্ঘ্যে ৩০ মিটার এবং প্রস্থে ২০ মিটার হতে হবে। খেলাটি ৮ মিনিট করে চারটি পিরিয়ডে খেলা হয় যার হাফ টাইমে ৫ মিনিট বিরতি এবং প্রথম ও তৃতীয় পিরিয়ডের পর থাকে ২ মিনিটের বিরতি। খেলা শুরুর মুহূর্তটা খুবই উপভোগ্য দুই দলের খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ গোল লাইনে দাঁড়ায়। আর বল থাকে সেন্টারে। যখন রেফারি শুরু করার সিগনাল দেন তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় বল হাতে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। বল ধরার সময় খেলোয়াড় কেবল এক হাতই ব্যবহার করতে পারে, তবে গোলরক্ষক তার গোলবারের ৫ মিটারের মধ্যে উভয় হাত ব্যবহার করতে পারে।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj