কর্মে এগিয়ে সমতায় পিছিয়ে আদিবাসী নারী

সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০

রাখী ম্রং

সম-অধিকার নিয়ে আওয়াজ তোলার দিন ৮ মার্চ। সর্বস্তরের নারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে এই দিনে। তা থেকে বাদ যায় না বাংলাদেশে সমতল এবং পাহাড় অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা। কারণ স্বল্পসংখ্যক এই সমাজের নারীরা আজো বহুমাত্রিক বৈষম্যের শিকার। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কারণে বৈষম্য আর অন্যদিকে দেশের সংখ্যালঘু জাতি এবং নারী হওয়ার কারণে মূলধারার মানুষের কাছেও নানাভাবে নিপীড়নের শিকার। প্রতিনিয়ত পরিবারে গণ্ডির ভেতরে এবং বাইরে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাদের। মর্যাদা ও অধিকারের জায়গায় তারা এখনো পুরুষের সমান হতে পারেনি। এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ নারীরা এখনো পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত। কারণ তাদের প্রথাগত আইনে নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিষয়টি উল্লেখ নেই। অন্যদিকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় কোনো আইন নেই। এই জনগোষ্ঠীর সমাজে এমন অনেক বদ্ধমূল ধারণা আছে যা নারীকে সংস্কৃতিগতভাবে সমাজে হেয় করে। এসব ধারণগুলো এমনভাবে উপস্থাপনা করা হয় যেন সমাজের সব মঙ্গল এবং অমঙ্গল নির্ভর করে ওই সমাজের নারীদের কাজের ওপর। লোকাহিনীগুলোতেও নারীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন চোখে পড়ে। যা সমাজে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সমাজেও নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য বিদ্যমান। ঘরের কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়া, খেত-খামারে পুরুষের চাইতে নারীর বেশি পরিশ্রম, পরিবারে সিদ্ধান্তের জায়গায় নারীর মতামতের গুরুত্ব না দেয়া, নারীর উৎপাদন কাজের অর্থনৈতিক মূল্যের স্বীকৃতি না দেয়া নারী-পুরুষের মর্যাদা ও অধিকারের জায়গায় অসমতা প্রকাশ পায়।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোয় পুরুষের আধিপত্যে নারী নেতৃত্ব পিছিয়ে রয়েছে। স্বাভাবিকই সামাজিক বিচার সালিশের রায় থেকে শুরু করে সমাজের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে একজন পুরুষের হাতে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কার্বারি (গ্রাম প্রধান), হেডম্যান (মৌজা প্রধান) চিফ সার্কেল পদগুলোতে সাধারণত পুরুষের সংখ্যা বেশি। নারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কোথাও কোথাও নারীরাও সেসব পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। কিন্তু পদ পেলেও বস্তুত ক্ষমতার জায়গাটি পুরুষেরই হাতে। উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমাজ কাঠামোতে একজন গ্রাম মাঝি হন একজন পুরুষ। গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃসূত্রীয় হলেও সং নকমা পদে থাকেন একজন পুরুষ।

সরকার ২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদন করেছে। এই নীতিমালা দেশের সর্বস্তরের সব শ্রেণি-পেশার নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাতে সন্দেহ নেই। তারপরও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা এ নীতিমালার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ এই নীতিমালায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীর বিষয়গুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করা নেই। আদিবাসী নারীদের প্রতি সব প্রকার বৈষম্য বিলোপ হবে। তারাও করে মূলজনগোষ্ঠী পাশাপাশি এগিয়ে যাবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj