সত্যিকারে নারীর উন্নয়ন হোক

সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০

স্মৃতিকনা বিশ^াস

‘জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা…’ কবি যথার্থই বলেছিলেন। নারীকে জাগতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু নারী যতই সামনে এগিয়ে যেতে চাইবে তার সামনে চলার পথকে যদি রোধ করার চেষ্টা করা হয় প্রতিনিয়ত সে সামনে যাবে কীভাবে? একটু পেছনের কথা দিয়েই শুরু করি। সালটা ২০১৭। জেন্ডার সহিংসতা বন্ধে ১৬ দিনব্যাপী প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রচারাভিযানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশে^র অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও ইউএন ওমেনের প্রতিনিধি। এছাড়াও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা ¯েøাগান তুলেছিলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল। এই ¯েøাগান কতটা কাজে লেগেছে? কত নারী গোটা বিশে^ প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, ধর্ষিত হচ্ছেন। কাজেই প্রতি বছর নারী দিবস আসবে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢাকঢোল পিটিয়ে কিছু মুখস্থ করা বুলি উগড়ে দিয়ে তো কোনো লাভ হচ্ছে না। প্রতিবাদের ধরনটা বদলানো জরুরি। না হলে এ সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। আর নারীকে তার অধিকার বুঝে নিতে হবে। নিজেকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী করতেই হবে। আরো সচেতন হতে হবে। শুধু মুখে বললে চলবে না। বিশ^জুড়ে জোড়ালোভাবে তৈরি করতে হবে গণসচেতনতা। নারীর প্রতি পুরুষদের যে অধঃস্তন দৃষ্টিভঙ্গি তা বদলাতে হবে নানা কর্মসূচির মাধ্যেমে। একজন নির্যাতিত নারীকে সামনের পথ চলতে তার পাশে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড়াতে হবে আন্তরিকভাবে। এখন আসি কেন এ কথা বলছি সেই প্রসঙ্গে। আমি একজন নির্যাতিত নারী। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একজন নির্যাতিত নারীর জীবনে অনেক কষ্ট। এসিডে মুখ ঝলসে গেলে তার ক্ষতটা ওপর থেকে দেখা যায়। আর ধর্ষণের শিকার একজন নারীকে সারাজীবন মনের ক্ষত নিয়ে চলতে হয়। তাকে এ সমাজ নানা কট‚ক্তিতে জর্জরিত করতেই থাকে। তার সংসার হয় না। সমাজে আজীবন তাচ্ছিল্য সহ্য করতে হয়। আমার চরম দুর্দিনে পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আরো ছিল ভোরের কাগজ পত্রিকা। কিন্তু সমাজের কোনো নারী নেত্রী বা এনজিওকে পাশে পাইনি।

আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারী নেত্রীই মঞ্চে দরদী ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়ান কতজন? নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এসব বলছি। আমি মাস্টার্স পাস করার পর চাকরির জন্য গিয়েছিলাম দুটি এনজিওতে। তারা চাকরি দেয়া তো দূরের কথা আমাকে অপদস্থ করেছে। সেসব দিনের কথা আজো ভুলিনি। সেদিন যদি পাশে কাউকে পেতাম কোনো সহযোগিতার হাত যদি পাশে থাকত তাহলে হয়ত সৃজনশীল কিছু কাজ আমিও করতে পারতাম। আমার মতো নির্যাতিত নারীর পাশে যেভাবে দাঁড়াতে চাই সেভাবে দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু পারিনি। কাউকে পাশে পাইনি। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নির্যাতিত নারীদের ব্যবহার না করে সেই সব নারীদের সত্যিকারের ভাগ্য বদলের জন্য কাজ করুক সবাই। নারীর সত্যিকার উন্নয়ন হোক।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj