নারীর পোশাক যেখানে যেমন

রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০

ফারজানা নীলা, ডিজাইনার

স্থান, আয়োজন কিংবা উৎসব বুঝে পোশাক বাছাই ভালো ফ্যাশনবোধের পরিচয়ই দেয়। বিয়ের দাওয়াতের পোশাক যেমন অফিসে বেমানান, তেমনি অফিসের পোশাক পরে সমুদ্রসৈকতে হাঁটা যায় না। এক সময় বাঙালি নারীর পোশাকে একচেটিয়া দাপট ছিল শাড়ির। শিশু থেকে বৃদ্ধা সবাই বেশ শখ করে পরতেন শাড়ি। সময়ের বিবর্তনে নারীর পোশাকে শাড়ির দাপট কমেছে। স্ট্রিট ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছে কুর্তা-কামিজ বা টপস। তবে উৎসব বা আয়োজনে এখনও জনপ্রিয় শাড়ি বা কুর্তা-কামিজই!

এখন কোনো অনুষ্ঠানের দাওয়াত এলে প্রথমে অনুষ্ঠানের ধরন, সময় ও তাৎপর্য বিবেচনা করে পোশাকের ধরন, উপাদান, রং, সাজ ও অনুষঙ্গ বাছাই করা হয়। পোশাক পরার সময় যে বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো অনুষ্ঠানটি ফরমাল, না ক্যাজুয়াল। এরপর নিজের পছন্দ, চলতি ধারা বুঝে পোশাক নির্বাচন। পৃথিবীর সব জায়গায় এখন স্থানকালপাত্র বুঝে পোশাক পরা হয়। আর পোশাক তো ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও মাধ্যম। তবে, শাড়ির প্রতি যেন নারীর আর টান নেই। তবুও বিশেষ দিনে বিশেষ পোশাক হিসাবে এখনো শাড়ির আবেদন সার্বজনীন। এছাড়াও পছন্দের লিস্টে রয়েছে কুর্তা কামিজও। তবে গতানুগতিক নয়, লং কাট, বেল্ট, ইলাস্টিক, ফিতার ব্যবহার প্যাটার্ন আর কাটছাঁটে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে কুর্তিগুলো।

বিয়ে কিংবা জমকালো অনুষ্ঠানে

বিয়ে হলো এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে বাঙালি মেয়েরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেই প্রথমে চলে আসে, কী পরব? একটা সময় ছিল, বিয়ে মানেই শাড়ি পরতে হবে। তবে এখন পরিবর্তন এসেছে অনেকটাই। অভিজাত বিয়েতে এখন অনেকে কামিজ, লেহেঙ্গা, সারারা ইত্যাদি পরে থাকে। তবে যাই পরুন না কেন, সবকিছুতেই চাই গর্জিয়াস লুক। এ ক্ষেত্রে কারচুপির কাজ করা শাড়ি বা পোশাকের কদর বেশি থাকে। শাড়ি পরলে ব্লুাউজের কাপড় ও কাটে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ইদানীং অধিকাংশ বিয়ে রাতে হয়, তাই মেয়েদের গাঢ় রঙের পোশাক পরতে বেশি দেখা যায়। বিয়ে হলে গায়ে হলুদ হবে না, তা তো হতে পারে না। গায়ে হলুদে হলুদ রঙের শাড়িকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও এখন অন্য রঙের চলও রয়েছে। গায়ে হলুদে মেয়েরা ফুলের গয়না পরতে বেশি পছন্দ করে। এছাড়া যেকোন জমকালো অনুষ্ঠানে ইদানিং নারীদের মসলিন, এন্ডি সিল্ককে মেশিন এমব্রয়ডারি, ক্যাটওয়ার্ক, ব্লুক বা স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবহারে তৈরি শাড়ি পরতে দেখা যায়। সফট সিল্ক, মসলিন, কাতানসহ বিভিন্ন দেশীয় শাড়ির প্রতি এবারও নারীদের আগ্রহ বজায় থাকবে। নকশাদার ব্লুাউজের স্টাইল ২০২০ সালেও বজায় থাকবে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লুাউজ নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্লুাউজের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি পরার ঝোঁক বাড়বে।

ছোট আয়োজনে

জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠানে এখন প্রায়ই যেতে হয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মেয়েরা তাদের নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিতে পারেন। তবে অফিস পার্টি, বিশেষ উৎসব বা বিবাহবার্ষিকীতে বুটিকে ফিউশন শাড়ি পরা যায়। সেদিকে ঝোঁকটা এখন বেশিই দেখা যাচ্ছে।

অফিসে

কর্মজীবী মেয়েদের অফিসের কাজে কিংবা মিটিং, সম্মেলন, সেমিনার ইত্যাদি জায়গায় আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল পোশাক পরতে হয়। এ ধরনের আয়োজনে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ যাই পরুন না কেন, সেটা এক রঙের হলে ভালো হয়। অর্থাৎ এসব অনুষ্ঠানে প্রিন্টের কাপড় না পরাই ভালো। পোশাকের রঙের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। উজ্জ্বল বা শকিং কোনো রঙের পোশাক না পরাই উত্তম। শাড়ি পরলে ব্লুাউজের কাটের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের ওপর বেøজার পরতে পারেন, যা স্মার্টনেস বাড়িয়ে দেয়।

চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার সময়ও আনুষ্ঠানিক পোশাক পরা প্রয়োজন। পেশাদার কাজে কারও সঙ্গে দেখা করতে গেলেও এ ধরনের পোশাক পরা ভালো। এক্ষেত্রে সালোয়ার কামিজ, কুর্তা- স্কার্ফ মানানসই।

উৎসব বুঝে রঙ- পোশাক

বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসে মেয়েদের বিশেষ পোশাক পরতে দেখা যায়। বিশ্ব নারী দিবস মেয়েরা বেগুনি কিংবা গোলাপি রঙের শাড়ি, কামিজ পরে উদযাপন করে থাকেন। বিজয় দিবসে লাল-সবুজ, ভাষা দিবসে সাদা-কালো, আর ভালোবাসা দিবসে লাল রঙের পোশাক তো মোটামুটি আবশ্যকই। এ ছাড়া পয়লা ফাল্গুনে বাসন্তি রঙের কামিজ- শাড়িই প্রাধান্য পায়।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj