আমার যত ভালোবাসা

শনিবার, ৭ মার্চ ২০২০

শেখ শামীমা নাসরীন পলি

সেই শৈশব থেকেই আমি একটু আলাদা। প্রকৃতির কোলঘেঁষে থাকতে ভালো লাগত। আমি গাছ, ফুল, লতা, পাতা নিয়ে খেলা করতাম। আপন মনে, একা একা।

বেতের ডালা নিয়ে হিজল ফুল কুড়াতে যেতাম। পাড়ার উত্তর দিকের মাঠে বেশ কয়েকটি হিজল গাছ ছিল। আমি ডালা ভরে ছোট ছোট গোলাপি রঙের হিজল ফুল কুড়িয়ে আনতাম। মালা গেঁথে গলায় পরতাম।

এই ফুল কুড়ানো নিয়ে অনেক কাহিনী আছে। সবাই বলত, হিজল গাছে ভূত থাকে। দুপুরে হিজল গাছের নিচে গেলে ভূতে তুলে নিয়ে যায়। তুই যে একা একা দুপুরে ফুল কুড়াতে যাস, তোকে তো ভূতের রাজ্যে নিয়ে যাবে।

আমি বলতাম, ভূতের বাড়ি যাওয়াই ভালো। ইচ্ছে মতো মুহূর্তের মধ্যে অনেক কিছু ঘুরে দেখতে পারব।

এখনো সেই চৈত্রের দুপুরে হিজল ফুল কুড়ানো সময়ে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে আমার।

২.

আমার আরেক নেশা। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে বসে থাকা। শীতের স্নিগ্ধ রোদে আমি কলাই, সরিষা ক্ষেতের আইলে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম। ফুলে ফুলে উড়ে উড়ে মৌমাছির মধু সংগ্রহ, প্রজাপতির উড়াউড়ি- আমাকে মুগ্ধ করত। বর্ষাকালে নৌকা নিয়ে ধান ক্ষেতের মাঝে অথবা শাপলা ফুলের মাঝে চলে যেতাম। এখনো আমাকে সরিষা ক্ষেত, শাপলা ফুল, প্রজাপতি, মৌমাছি পিছু ডাকে।

৩.

আমি আমার কৈশোরে কঠিন প্রেমে পড়লাম। আমার ঘুম কেড়ে নিল, স্কুল, পড়ালেখা সব ছিটকে গেল। আমি তার প্রেমে হাবুডুবু খাই। ভোরে উঠে দরজা খুলে বসে থাকতাম।

কখন হকার চাচা আসবেন? আর সবার আগে আমি পড়ব। হকার চাচা আসতেন সকাল ৮টার পর। আমার স্কুল ৮টায়।

পত্রিকার নেশায় স্কুল বন্ধ করতে করতে করেই দিলাম। আমার প্রথম প্রেম ভোরের কাগজ পত্রিকার সঙ্গে। এই ভোরের কাগজ পত্রিকার জন্য আমি অনেক কাহিনী করেছি।

৪.

আমার কৈশোরের ভুল সিদ্ধান্ত আমাকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। আমি দিশাহারা, নীল শিশিরে হাবুডুবু খাওয়া আহত পাখি।

৫.

আমি ভালোবাসি আমার পরিবারকে। পরিবারের সদস্যদের। বন্ধুদের।

আর! তোমাকে। ফিরতে রাত হলে চিন্তা হয়। ফোন বন্ধ হলে চাপ বাড়ে। এটাই প্রকৃত ভালোবাসা।

আমার ভালোবাসা কোনো একটি বিশেষ দিনের নয়। আমার ভালোবাসা কোনো দিনকে ঘিরে নয়। আমি অহর্নিশ ভালোবাসি।

ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে ফতুর করে দেব।

:: লালবাগ, ঢাকা

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj