ফুলভিক্ষুক

শনিবার, ৭ মার্চ ২০২০

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

– আম্মা! আম্মা!

দোতলা থেকে নামলেন বাড়ির মালিক জুলেখা বিবি। মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী।

– কী মিয়া, কী চাও?

– আপনের বাগানে কত ফুল। আমারে মাত্র একটা ফুল বিক্কা দিতাইন যুদি।

– ফুল বিক্কা? স্ট্রেঞ্জ! এই ধরনের ভিক্ষুক এই পোথোম শুনলাম।

– দেন না আম্মা।

– নাই নাই। যাও। বেশি ঝামেলা করবা না।

– দেন না আম্মা।

– যাইবা? নাকি প্যাদানি দিব।

ভিক্ষুক চলে আসে। যায় অন্য এক বাসায়। এভাবে কয়েক বাসা। সবাই মিলে এক বাক্যে না বলে দিল।

এবার আরেকটু সামনে এগোয়। একটা ফুলবাজার। কমতি নেই ফুলের। টনের টন ফুল এসেছে। দেদার বেচাকেনার জায়-ঝামেলা। কথা বলার ফুসরত নেই। ওখানে গিয়ে হাত পাতলো।

চোখ কপালে তুলল কেউ কেউ, কেউবা হাসল বাঁকা হাসি।

– পাগলে পাইছে। ফুল ভিক্ষুকও আল্লায় দেখাইলো। ওই মিয়া বালাই কাম জুরাইছো। বিক্কা কইরা ফুল উঠাইয়া আবার বেচনের ফন্দি।

– না বাজান। আমি বেচমু না। আমার পুলাডা কাইল শহীদ মিনারে যাইব। মাস্টর সাবে কইছে ফুল নিতে। ফুলের ত ম্যালা দাম…

– বুজ্জি। ধান্ধাবাজির চরকি খেল। যাও মিয়া ফুটো। কাস্টমার আইবার দেও।

চলে আসার জন্যে প্রস্তুত হতেই পেছন থেকে একটা মেয়ে ডাকল।

– চাচা।

– কী কও মা?

– সকাল থাইককা এই ফুলগুলা টুকাইছি। ম্যালা ট্যাকার ফুল বেচছি। আমি তোমারে বাকি ফুলগুলা দিয়া দিমু।

– আমার কাছে ত ট্যাহা বেশি নাই। বিক্কা কইরা কয়েক ট্যাহা পাইছি।

– তুমার কাছ থাইককা ট্যাহা নিমু না। এমনেই দিলাম। তুমার পুলারে দিও… হের মতো কাইল আমিও শহীদ মিনারে যামু।

ফুলগুলো হাতে তুলে নিল ভিক্ষুক। চোখের কোণ বেয়ে তখন গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রæ।

:: শ্যামগঞ্জ, ময়মনসিংহ

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj