ভ্যালেন্টাইন দিবসে পাফো সিলেট পরিবারের আড্ডা : সখি ভালোবাসা কারে কয়…

শনিবার, ৭ মার্চ ২০২০

উদয়ন বড়ুয়া

এক সপ্তাহ আগেই বলে রাখা হয়েছিল- বাবু, ঐদিন (ভ্যালেন্টাইন ডেতে) সারাদিন যাই করো না কেন, বিকেলে পাফোর জন্য ভালোবাসার যেন কমতি না হয়!

সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালনে সবার আগে হাজির পাফো সিলেটের কাণ্ডারি অমিতা বর্দ্ধন! আড্ডার নির্ধারিত স্থান মদনমোহন কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সবার আগে উপস্থিত তিনি। এরপর আমিসহ কয়েকজন হাজির হলেও একজনকে না দেখে কপট রাগে গিজগিজ করছিলেন অমিতা দি! আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারছি না, এমন সময় তিনিই চোখমুখ গম্ভীর করে বলেন, মিহির বাবু কই?

আরে তাইতো, সেক্রেটারি মিহির মোহন লাপাত্তা! ফোনেও মিলছে না।

এ ব্যাটা নিশ্চিত ভালোবাসায় ডুবে আছে!

তবে এ সময়ের তারুণ্য কী তা মানে? তারা ঠিকই জানে ভালোবাসা আর আড্ডার সমন্বয়। তাই একের পর এক হাজির অমিত, জয়, এমরান, সাহেদ, মনির, তানবীর, সাগর প্রমুখ। আড্ডাকে ভালোবেসে আরো হাজির সস্ত্রীক জ্যোতির্ময় দাশ, পল্লব সাহা, অজিত রায় ভজন, প্রশান্ত লিটন, দেবব্রত দিপনসহ আরো অনেকে।

এদিকে সভাপতি অমিতা বর্দ্ধনের তুমুল পায়চারি! কারণ, সবাই উপস্থিত হয়ে আড্ডা-আয়োজন শুরুর তাগাদা দিচ্ছেন তাকে; অথচ সাধারণ সম্পাদক মিহির মোহনের হদিস মেলেনি তখনো! এই ভালোবাসার দিনে কেউ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল কিনা? সাদা ধবধবে মানুষ তিনি (সাদা জিনিসকে সবাই একটু বেশি লাইক করে কিনা)। এই যখন অবস্থা- কোথা থেকে যেন হন্তদন্ত হয়ে হাজির সেক্রেটারি মিহির মোহন, সঙ্গে আমাদের ছোট্ট নিধি। যাক নিশ্চিত হওয়া গেল, কোনো সুন্দরী অন্তত ছিনতাই করেনি তাকে!

বাউল লাল শাহ্ সম্ভবত বিষয়টি খেয়াল করে থাকবেন। মিহির বাবু আসতেই মায়াবী গলায় ধরলেন গান। জমে উঠল আড্ডা, একক গান বনে গেল কোরাসে…

দীর্ঘ সময় পরে দেখা গেল সভাপতি অমিতা বর্দ্ধনের মুখে হাসি, মেঘ নেমেছে তাহলে!

দারুণ সব কবিতা ও ছড়া পড়লেন বন্ধু অজিত রায় ভজন, জ্যোতির্ময় দাশ, প্রশান্ত লিটন, উদয়ন বড়–য়া, লিটন দাস লিকন, মহিনউদ্দিন জয়, এমরান খাঁন, সাহেদ তালুকদার, তানবীর মুবতাসিম, আবদুল্লাহ আল মনির, সাগর মিত্র ও পল্লব সাহা। বিমান তালুকদার চুপচাপ বসে থাকতে চেয়েছিলেন, তা আর হলো কোথায়? পাফো বন্ধুদের এক দফা এক দাবি- বিমানের কণ্ঠে গান শোনা চাই-ই চাই।

অগত্যা বিনয়ী বিমান সবসময়ের মতো শুরু করল তার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত। এরপর দেবব্রত রায় দিপন বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন দেশমাতৃকা নিয়ে তার ভাবনা। এর মাঝেই হাজির হলেন আরো তিন বন্ধু- তপন চন্দ্র রায়, স্বপন মিয়া ও কৃষ্ণ গোপাল রায়।

আড্ডার যখন এই অবস্থা তখনই সুন্দরী এক তরুণী এসে হাজির। বলাবহুল্য, তার দৃষ্টিটা সঞ্চালক মিহির মোহনের দিকেই! অচেনা কিছু মুখ তাকিয়ে, কাহিনী কী? তাও আবার ভালোবাসা দিবসে! আর আমরা হেসেই খুন, কারণ আমরা জানি- উনি আমাদের বৌদি সঙ্গীতশিল্পী ইমা দাস। শিল্পী পেয়ে গেলাম, গান না গেয়ে তো ছাড়া যায় না! একটা গান গাইলেন মাত্র, আর অমনি সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হলো- ওয়ান মোর, টু মোর! ইমা বৌদি আর যান কই! পরপর কয়েকটা গান গেয়ে তবেই নিস্তার পেলেন।

সহসভাপতি হিমেল রায়ের ভাগ্য বিড়ম্বনা আর যায় না! শেষ মুহূর্তে হাজির হয়ে মিষ্টি ভালোবাসা স্বরূপ আড্ডা শেষে রেস্টুরেন্টের বিলটা তার পকেটকেই যে ভালোবাসে!

১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিনে বন্ধুদের সব ভালোবাসা এসে যেন ভিড় করেছিল পাফো সিলেটের আড্ডায়…।

:: সহসভাপতি,

সিলেট জেলা পরিবার

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj