ঢাবির ভাস্কর্য

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা, ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব জাতীয় আন্দোলনের সূতিকাগার এই বিশ্ববিদ্যালয়। এসব সংগ্রামের গৌরব জানান দিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কিছু ভাস্কর্য। প্রতিটি ভাস্কর্যের পেছনে রয়েছে একেকটি সংগ্রামের গল্প। ভাস্কর্যগুলো নিছক জড়বস্তু নয়, বরং ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো মাথা উঁচু করে বলছে অধিকারের কথা, ত্যাগের কথা-

অপরাজেয় বাংলা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নারী পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ লড়াইয়ের ইতিহাস জানিয়ে দেয় এই ভাস্কর্য। সেই ইতিহাসের প্রতীকী চিহ্নই ‘অপরাজেয় বাংলা’। ঢাবির কলাভবনের সামনের বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিমূর্তি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে। মুক্তিযুদ্ধে ঢাবির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক অংশগ্রহণ জানিয়ে দিচ্ছে এই ভাস্কর্য। ১৯৭৩ সালে ‘স্বাধীনতা ভাস্কর্য’ নামে এটির প্রাথমিক কাজ শেষ হয়। পরে লোকমুখে পরিচিতি পায় ‘অপরাজেয় বাংলা’ হিসেবে। বর্তমানে মিছিল-মিটিং সব আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র এটি। ভাস্কর্যটির মডেল ছিলেন সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে। আর নারীমূর্তির মডেল ছিলেন হাসিনা আহমেদ। স্বাধীনতার এ প্রতীক তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন গুণী শিল্পী ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।

স্বোপার্জিত স্বাধীনতা : ষাটের দশকের তরুণ প্রজন্মের লড়াইয়ের পরিণতি হলো মুক্তিযুদ্ধ। দেশের সব পেশার মানুষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ত্যাগের বিনিময়ে এই অর্জনকে স্মরণ রেখেই টিএসটির সড়ক দ্বীপে নির্মিত হয় ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’। এটি নির্মাণ করেন ভাস্কর শামীম শিকদার। এই ভাস্কর্যের গা-জুড়ে রয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচাররে কয়েকটি খণ্ডচিত্র। বেদির ওপর মূল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ওপরে বামে আছে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক আর ডানে অস্ত্র হাতে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাঝখানে অস্ত্র হাতে নারী ও পুরুষ যোদ্ধারা উড়িয়েছে বিজয় নিশান। এ ভাস্কর্য বেদির বাম পাশে আছে ছাত্র-জনতার ওপর অত্যাচারের নির্মম চেহারা। ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এ ভাস্কর্য গড়া শেষ হয়।

রাজু ভাস্কর্য : বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের নিদর্শন এই ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। শ্যামল চৌধুরী ও সহযোগী গোপাল পাল এ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ৯২ সালের ১৩ মার্চ ঢাবির ক্যাম্পাসে দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত হন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মঈন হোসেন রাজু। তার স্মৃতি রক্ষার্থে ভাস্কর্যটি নির্মাণ হয়।

স্বাধীনতার সংগ্রাম : জগন্নাথ হলের পশ্চিম পাশে ফুলার রোডের একটি সড়কদ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ এই ভাস্কর্য। এই সড়কদ্বীপে রাখা হয়েছে আরো অনেক ভাস্কর্য। এক জায়গায় এত ভাস্কর্য দেশের আর কোথাও নেই। মূল ভাস্কর্যটিতে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ তথা বিজয়ের আনন্দ ঠাঁই পেয়েছে। ভাস্কর্যের সবচেয়ে উঁচুতে বন্দুকের সঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বাঁধা। তার নিচে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের তর্জনীর উঁচু করা সেই চিরচেনা ভঙ্গি। ভাস্কর্যটিতে ৪২টি বাতি, একটি সংকেত বাতি, একটি লাইটিং ও পানির পাম্প এবং ছয়টি পানির ফোয়ারা সংযুক্ত করা আছে। ভাস্কর্যগুলোর সবই নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শামীম সিকদার। মূল ভাস্কর্যটি ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন মনীষীর ছোট ছোট অনেক ভাস্কর্য।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj