ফুটবল উৎসবে প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে গত শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল বিভাগ। একই দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত মেয়েদের বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২-২-এ ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। ঢাকা বিভাগকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় খুলনা বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে টুর্নামেন্টের ট্রফি তুলে দেন। এছাড়া সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলকিপারসহ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট টুর্নামেন্ট দুটোর লোগো এবং ট্রফি উন্মোচন করা হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে বালক ও বালিকা আসরের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্ট দুটোতে উপজেলা পর্যায় থেকে বালকদের খেলা এবং জেলা পর্যায় থেকে বালিকাদের খেলা হয়। বালক বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে ৪ হাজার ৮২৮টি, জেলা পর্যায়ে ৫৮১টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৬৮টি ও জাতীয় পর্যায়ে আটটি দলের ৯৮ হাজার ৭৩০ জন ফুটবলার অংশ নেন।

অন্যদিকে বালিকা বিভাগের খেলায় জেলা পর্যায়ে ৫৮১টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৬৮টি ও জাতীয় পর্যায়ে আটটি দলে ১১ হাজার ৮২৬ জন ফুটবলার অংশ নেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে এ ফুটবল উৎসবের পর্দা নামে।

ক্রীড়াক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করেন। মেয়েদের খেলার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েরা অত্যন্ত চমৎকার খেলেছে। খেলা দেখে সত্যি আমি খুব আনন্দিত। এসব খেলোয়াড়দের থেকে আগামী দিনে জাতীয় দলের খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে শৈশব-কৈশোর থেকেই খেলাধুলার চর্চাটা জরুরি, ‘আমাদের শিশু-কিশোরেরা অত্যন্ত মেধাবী। সেই মেধা বিকাশে সুযোগ করে দিতে চাই সন্তানদের জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে আমাদের দূরে রেখে। শিশুদের ধীরে ধীরে তাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চা একান্ত অপরিহার্য়। আর এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত মেধা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে এবং তাদের মন অত্যন্ত উদার হয়। সব থেকে বড় কথা হলো দেশের জন্য গৌরব নিয়ে আসা।

ক্রীড়াক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন শেখ হাসিনা, আজকে ক্রীড়াক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছি। এই অগ্রগতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাতির পিতা উদ্যোগ নিয়েছিলেনে ক্রীড়াক্ষেত্রটাকে আরো প্রসারিত করতে। এবং আমার ভাই শেখ কামাল, শেখ জামালসহ সবাই কিন্তু ক্রীড়ার সঙ্গে গভীরভাবে সস্পৃক্ত ছিল। আজকের আধুনিক ফুটবল এবং বিভিন্ন ক্লাবকে গড়ে তোলাসহ আবাহনী ক্লাব থেকে শুরু করে সবকিছু শেখ কামালের হাতে গড়া।

খেলাধুলায় নানা সুযোগ সৃষ্টি করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা, আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খেলাধুলার জন্য আমি বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। এটার অর্থ হলো সেখানে ১২ মাস খেলাধুলা চলতে পারবে। সেই সুযোগটি আমরা করে দিচ্ছি।

এবছরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি ১৭ মার্চ থেকে। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি। তার জন্মশতবার্ষিকী আমরা ২০২০ সালে উদযাপন করব। ২০২১ সাল পর্যন্ত উদযাপন করা হবে এই মুজিববর্ষ। এরপর ২০২১ সালেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদযাপন করব।

বঙ্গবন্ধু যে একজন ফুটবলার ছিলেন, সেটা আবারো মনে করিয়ে দিয়েছেন তার সুযোগ্যা কন্যা, আমরা ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে সম্মান পেয়েছি। একটি রাষ্ট্র পেয়েছি।

আমাদের পরিচয় পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই তিনি এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং ছাত্রজীবনে তিনিও একজন ফুটবলার ছিলেন। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। আমার ভাইয়েরা ফুটবল খেলতো। আমার নাতি-পুতিরাও ফুটবল খেলে।

::তাইসির আদীব নূর

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj