ইআরডির তথ্য : বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে

সোমবার, ২ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : যমুনা নদীতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৭ হাজার ৭২ কোটি টাকা। এই বাড়তি ব্যয় মেটাতে আবারো ঋণ করতে হচ্ছে। জানা গেছে, বাড়তি ব্যয়ের ৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)।

২০১৬ সালে প্রকল্পটি যখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। তখন জাইকার ঋণ ছিল ৭ হাজার ৭২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নানা কারণে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৬ হাজার ৮০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে, বাড়তি ব্যয়ের ৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ দিতে রাজি হয়েছে জাইকা। বাকি অর্থ সরকারি খাত থেকে আসবে।

ইআরডি সূত্র জানায়, যমুনা নদীতে রেল সেতু নির্মাণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। বাড়তি ঋণের জন্য জাইকাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা সম্মত হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণকাজের মূল্যবৃদ্ধি, নতুন কাজ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি ও অন্যান্য ফ্যাসিলিটি ভাড়ার সংস্থান, একটি জাদুঘর ও পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ, ব্যাংক চার্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনেকেশন ওয়ার্কাস ও প্যাকেজ-৩ এর কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে জাইকাকে জানানো হয়েছে। এর ফলেই বাড়তি ঋণ দেবে জাইকা।

ইআরডির আমেরিকা ও জাপান উইংয়ের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। বাড়তি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে জাইকাকে অবহিত করেছি। তারা বাড়তি ঋণ দিতে সম্মতি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, সংশোধিত প্রকল্পে ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শক খাতে সরকারি তহবিল হতে ২১২ কোটি টাকাসহ মোট ৮১৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়ছে। আবার সরকারি অর্থে ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট পরামর্শক বাবদ ৫২ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে জমি অধিগ্রহণ, জমি ব্যবহার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ মোট ৩৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ছিল না। প্রকল্পের কাজের বেশির ভাগ আইটেমের বিশদ নকশা প্রণীত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রাইস ও ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি বাবদ ১২২ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হচ্ছে। সার্বিকভাবে পরামর্শক খাতে ২৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, এর কারণ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এছাড়া অনারিয়ম অব ইমপ্লয়্যারসের জন্য ১ কোটি টাকা এবং অনারিয়ম ফর আদারস খাতে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।

প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর অগ্রগতি মাত্র ৯ শতাংশ। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পটি একনেকে ভিন্নভাবে অনুমোদন করা হয়। এসব প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের আগেই ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি, নকশা ও সার্ভে করেই একনেকে উপস্থাপন করা হয়। অথচ এসব কাজ না করেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। ফলে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি নেই বলা চলে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরই নকশাসহ অন্যান্য কাজ করতেই কালক্ষেপণ হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি কম। প্রকল্পের অগ্রগতি কম প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্প গ্রহণের আগেই যেসব কাজ করতে হয়, তা প্রকল্প অনুমোদনের পর করতে হচ্ছে। এভাবেই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রথমে ছয় মাস ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করেছি ফলে পিছিয়ে পড়েছি।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj