নভেল করোনা ভাইরাস : এশিয়ায় গার্মেন্ট শিল্পে ছাঁটাইয়ের হিড়িক

সোমবার, ২ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে কোয়ারান্টাইন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো ঘটনায় চীন সংশ্লিষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এশিয়াজুড়ে কারখানা সাময়িক বন্ধ ও ছাঁটাই এরই মধ্যে মহাদেশটির স্বল্প মজুরির শ্রমিকদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

হান্টার মিয়ানমার অ্যাপারেল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন ৩১ বছর বয়সী আয়ে সু থান। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আকস্মিকভাবেই কোম্পানির ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। মাসে ১৩০ ডলার আয় করা ৫ মাসের গর্ভবতী আয়ে সু থান জানান, কোম্পানি কারণ হিসেবে জানিয়েছে, তাদের কাছে কোনো কার্যাদেশ নেই, কোনো বায়ার নেই। ভাইরাসের কারণে তারা কারখানা বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতালির একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক উৎপাদন করত কোম্পানিটি।

ছাঁটাইয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোম্পানি থেকে ৩২০ ডলার পেয়েছেন আয়ে সু থান। চাকরি চলে যাওয়ায় অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন আয়ে সু থান জানেন না এখন কী করবেন; কারণ এ মুহূর্তে কোথাও চাকরি পাওয়া সহজ নয়।

এশিয়ার বহু অঞ্চলেই এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা একের পর এক ঘটছে। বিশেষ করে মহাদেশটির ২৯ হাজার কোটি ডলারের বস্ত্র শিল্প ব্যাপক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনায় জর্জরিত।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালে বিশ্বের ৬০ শতাংশ তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও জুতা শিল্পে অবদান রেখেছে এশিয়া।

চীন থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কোয়ারান্টাইনের ফলে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এতে নি¤œ মজুরির শ্রমিকরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মহামারি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

ইউনিক্লো থেকে শুরু করে এডিডাসের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর বিশ্বব্যাপী সরবরাহকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং চীনে তৈরি উৎপাদন শূন্যতা পূরণে ব্র্যান্ডগুলো চাইলে দেশটির বাইরে উৎপাদন সরিয়ে নিতে পারে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাপারেল ও টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারার চীন। এখন পর্যন্ত পোশক শিল্পের সোর্সিংগুলো ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কারখানাগুলো গভীরভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল; বিশেষ করে কাপড়, বোতাম ও জিপারের মতো পণ্য সরবরাহের শীর্ষ উৎস দেশটি।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj