কমবে পিসির বৈশ্বিক সরবরাহ

রবিবার, ১ মার্চ ২০২০

নভেল করোনা ভাইরাস বিস্তারের কেন্দ্রস্থল চীন পার্সোনাল কম্পিউটারের (পিসি) বৃহত্তম বাজারের একটি। এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি, যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক খাতে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস জানিয়েছে, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছর পিসির বৈশ্বিক সরবরাহ কমপক্ষে ৩ দশমিক ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। গ্রাহকদের কাছে পাঠানো পরিমার্জিত পূর্বাভাসে ক্যানালিস জানায়, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে পিসির সরবরাহ কমপক্ষে ১০ দশমিক ১ থেকে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। এমনকি দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এর প্রভাব দৃশ্যমান থাকতে পারে। ওই প্রান্তিকেও পিসির সরবরাহ ৮ দশমিক ৯ থেকে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, চলতি বছর সব মিলিয়ে ৩৮ কোটি ২০ লাখ ইউনিট পিসি বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ হতে পারে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এটাই হবে পিসির বাজারের তুলনামূলক ভালো অবস্থা। অবস্থা খুব শোচনীয় হলে পিসির বৈশ্বিক সরবরাহ ৩৬ কোটি ২০ লাখ ইউনিটে নেমে আসতে পারে, যা আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে পিসির বৈশ্বিক সরবরাহ ছিল ৩৯ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট। ক্যানালিস জানায়, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বড় আঘাত দেখা যাবে প্রথম দুই প্রান্তিকের সরবরাহে, যা কাটিয়ে উঠতে চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

পরিস্থিতি অতটা গুরুতর না হলে ২০২০ সালের এপ্রিল নাগাদ পিসি উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে বৈশ্বিক পিসির বাজার ধীরে ধীরে ধকল কাটিয়ে উঠতে শুরু করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে পিসির বাজারের পরিস্থিতি শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছলে উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরে যেতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত লাগতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে চীনে উৎপাদন ও চাহিদা পুনরুদ্ধারে আরো বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এমনকি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকেও পতন দেখা যেতে পারে।

ফলে বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হতে ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের শেষভাগ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ক্যানালিস। নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পিসির পাশাপাশি স্মার্টফোন, অটোমোবাইল, টেলিভিশন, স্মার্ট স্পিকার ও ভিডিও গেম খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj