বিএসইসির অনলাইন অভিযোগ মডিউলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তৈরি করা ‘কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউল’-এর মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ। ফলে এখন আর বছরের পর বছর অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এছাড়া এই অনলাইন মডিউলের কারণে অভিযোগকারীর হয়রানি এবং ব্যয় কমে এসেছে। এর ফলে অভিযোগ করার এই অনলাইন মডিউলটির দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। অনলাইন মডিউল চালু হওয়ার আগে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে হতো বিনিয়োগকারীদের। আর অভিযোগের সেই কাগজ এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে যেতেই অনেক সময় লেগে যেত। তবে এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। ফলে মডিউলটি চালুর হওয়ার পরে একটি অনলাইনের অভিযোগ গড়ে সাড়ে ১৪ দিনেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সমাধানের হারও অনেক বেশি। বিএসইসির চেয়ারম্যান গত বুধবার আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রটেকশন অব ইন্টারেস্ট অব ইনভেস্টর। কিন্তু তারা অভিযোগ নিয়ে অসহায় হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরত। তবে তারা কমপ্লেইন্ট মডিউলের মাধ্যমে সেগুলো অ্যাড্রেস করার উপায় পেয়েছে। আমরা আজকে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেখলাম যে, ৯৫ শতাংশ সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। কাজেই এই মডিউলটা সৃষ্টির মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের জন্য একটি জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, বিএসইসির অনলাইনে অভিযোগ দাখিলের মডিউলটি খুবই ইতিবাচক। এই মডিউলের মাধ্যমে একজন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই অভিযোগ করতে পারছেন। তাকে সশরীরে বিএসইসিতে আসতে হয় না। এতে তার সময় ও ব্যয় বেঁচে যাচ্ছে। এছাড়া অভিযোগগুলোও আগের তুলনায় দ্রুত সমাধান হচ্ছে। যা শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন মডিউলটি চালু হওয়ার পরে মোট ২০৬টি অভিযোগ দাখিল করেছে বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে ১৯৫টি বা ৯৫ শতাংশ সমাধান করা হয়ে গেছে। যেগুলো সমাধানে গড়ে সাড়ে ১৪ দিন সময় লগেছে। বাকি ১১টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মডিউলটি চালু হওয়ার পরে সমচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অক্টোবর মাসে। ওই মাসে ৮২টি অভিযোগ পায় কমিশন। এছাড়া নভেম্বর মাসে ৫৬টি, ডিসেম্বর মাসে ২৭টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২১টি, জানুয়ারি মাসে ১৯টি ও সেপ্টেম্বর মাসে ১টি অভিযোগ পায় কমিশন। ওইসব অভিযোগের মধ্যে জানুয়ারি মাসের ১টি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ১০টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের ৪ মাসের সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ গতকাল আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, মডিউলটি চালু করার ক্ষেত্রে ডিএসই এবং সিডিবিএল সহযোগিতা করেছে। অধিকাংশ কাজই করেছে ডিএসই। এছাড়া মডিউলটি বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে গণমাধ্যম। তাই তিনি এই ৩টি গ্রুপকে সম্মানিত করার জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান করেন। ফরহাদ আহমেদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ফরহাদ আহমেদ যে ৩টি গ্রুপকে সম্মানিত করতে বলেছেন, সেই ৩টি গ্রুপসহ তার নেতৃত্বে এই মডিউলটি তৈরির কাজে অংশগ্রহণ করা সদস্যদেরও সম্মানিত করা হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj