মশা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দিন দিন রাজধানীতে মশার উপদ্রব অতি মাত্রায় বাড়ছে। মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ জনজীবন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ থাকলেও সেই অনুযায়ী মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশেনের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তাই মশা নিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। নগরবাসী বলছেন অন্য সময়ের চেয়ে এখন মশার উপদ্রব খুব বেড়েছে। দিনেও মশার হাত থেকে রেহাই নেই। অন্যদিকে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে বদ্ধভাবে থাকতে হচ্ছে, তাতেও মশার উপদ্রব কমছে না। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিষাক্ত মশার কয়েল ব্যবহার করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ফরমালিন ও পানিতে আর্সেনিকের প্রভাব যেমন দীর্ঘমেয়াদি, তেমনি কয়েলের বিষাক্ত উপাদানও মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ সৃষ্টি করে। কয়েলে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকায় ক্যান্সার, বিকলাঙ্গতা ও লিভারের রোগী বাড়ছে বাংলাদেশে। এছাড়া এসব কয়েল ব্যবহারে শ্বাসনালিতে প্রদাহ, গর্ভের শিশুর ক্ষতি, লিভার-কিডনি বিকল হওয়া, ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জিসহ নানা চর্মরোগ হতে পারে। আবার এদিকে দেশে যেসব মশার কয়েল উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোর কোনোটিতে কোন উপাদান কত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তাও হচ্ছে না তদারকি। তাহলে সহজেই অনুমান করা যায় আমরা কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে আছি। অথচ মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যকরী পদক্ষেপ কম। প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুবেলা মশা নিধনে বিষাক্ত কীটনাশক ছিটানোর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। মশক নিধনকারী কর্মীদের দেখা পাওয়া যায় না। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নানা সময় মশক নিধনের নানা প্রতিশ্রæতি দিলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। মাঝে মাঝে সংবাদ মাধ্যমে মশক নিধনে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা শুনি। মশক নিধনে বৃহৎ পরিসরে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। অথচ এ জন্য সিটি করপোরেশনের বাজেট রয়েছে। রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক। মশক নিধন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেয়া যায় না। তাই নগরবাসীর শঙ্কা এখনই মশার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গত বছরের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। তাদের এই শঙ্কা মিথ্যাও নয়, কেননা আগের বছরে আমরা দেখেছি পর্যাপ্ত ওষুধ থাকার পরও মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। এমনকি পরে জানা গেছে, সেই ওষুধগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না- সেটাই সবার চাওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শুধু ওষুধ মজুত করলেই হবে না; তা ছিটানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। তবেই না মশার বিরুদ্ধে এগিয়ে থাকা যাবে। পাশাপাশি মানুষকেও তাদের বাসা-বাড়ি, ফুলের টব, ছাদের বাগান, পানির ট্যাংক, এসি-ফ্রিজে জমা পানি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের দিকে চেয়ে থাকলে চলবে না; নিজেদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি মশার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে যাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। নাহলে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। কেননা কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া মশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। মশা শুধু দুর্ভোগই সৃষ্টি করে না। ডেঙ্গু, জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন মরণঘাতী রোগের জীবাণুও বহন করে। এ জন্য মশার উপদ্রব দ্রুত বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে এডিস মশার সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না পায় এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অমিত বণিক
উত্তরা, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ফোর্স নয়, সেবকও নয়, বন্ধু চাই

নিতাই চন্দ্র রায়

এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে

ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

বিভুরঞ্জন সরকার

আমরা কথা ও কাজে এক হব কবে?

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

করোনায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

Bhorerkagoj