ভাঙ্গুড়ায় এক পরিবারের জন্য একটি ব্রিজ!

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামে এলজিইডির ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজের এক পাশের সংযোগ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। যার ফলে ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না দশ গ্রামের মানুষ।

সরজমিন দেখা যায়, ব্রিজটি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার সঙ্গে নৌবাড়িয়ার দিকে মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু ব্রিজটির দক্ষিণ প্রান্তে মাহমুদুল ইসলামের বাড়ি হওয়ায় উত্তর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা থেকে নৌবাড়িয়ার গ্রামের দিকে আসলেও জনসাধারণ দক্ষিণ প্রান্তে রাস্তা বন্ধ পাচ্ছেন।

ফলে তারা আর ওই ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছে না না। যার ফলে তারা প্রায় ৩ কি.মি. পথ ঘুরে এসে আবার সেই ব্রিজের দক্ষিণ পাশের নৌবাড়িয়া নতুন ব্রিজে উঠতে হচ্ছে। যে কারণে উপজেলার বড় বিশাকোল, ছোটবিশাকোল, কয়ড়া, পুকুরপার, পরমানন্দপুর, সাতবাড়িয়া, ময়দানদীঘি, খানমরিচ, রুপসী এলাকার জনসাধারণ ভাঙ্গুড়া আসতে প্রায় ৩ কি.মি. পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন এলজিইডির ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্মিত রাস্তা কীভাবে এক পরিবার ব্যবহার করে। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানায়, প্রায় পনের বছর আগে নৌবাড়িয়া খেয়া ঘাট সংযোগে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি নৌবাড়িয়া গুমানি নদীর ওপর বড় একটি সেতু নির্মাণের পর এই ফুট ব্রিজের গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে। কারণ নৌবাড়িয়া গ্রামের পেছনে পাকা সড়ক থেকে ফুট ব্রিজ দিয়ে গুমানি সেতুর দূরত্ব মাত্র তিনশ মিটার। ছোটবিশাকোল গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্থানীয় সরকার জনসাধারণের জন্য ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছে। অথচ আমরা প্রায় দশ গ্রামের মানুষ এখন তা ব্যবহার করতে পারছি না। এলাকাবাসী এলজিইডির ওই ফুট ব্রিজটি জনচলাচলের উপযোগী করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের একজন সাবেক হিসাবরক্ষক হেড অফিসে থাকতে তদবির করে নিজেদের প্রয়োজনে এই ব্রিজটি নির্মাণ করিয়ে নেয়। ব্রিজের দক্ষিণ পাশে তাদেরই জায়গা। তারা এখন রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে ব্রিজটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj