অবৈধ চাল আটকের পরেও ছাড়!

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় অবৈধভাবে চাল দেয়ার সময় হাতেনাতে চার ট্রাক চাল আটক করলেও রহস্যজনক কারণে তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে ভালুকা খাদ্যগুদামে।

জানা যায়, মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও গুদাম কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদামে সরকারি ধান-চাল ক্রয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালভর্তি চারটি ট্রাক আটক করে ট্রাকের চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চালকরা জানায়, চাল ভর্তি ট্রাকগুলো তারা রংপুরের একটি মিল থেকে নিয়ে এসেছেন। এর মালিক ভালুকার সিরাজ। পরে আবুল কালাম বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও ভালুকার ইউএনওকে অবগত করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রকৃত কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়ের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা একটি চক্র খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আটক হওয়া ৬০ টন চালের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সিন্ডিকেট অথবা চুরির মাল হিসেবে ধরে নিতে পারি। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ইউএনও খাদ্যগুদামে উপস্থিত হয়ে ট্রাকের চালক ও মিল মালিক মকবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের সঙ্গে সিরাজও উপস্থিত ছিলেন, সেখানেও চালকরা স্বীকার করেন তারা চাল রংপুরের একটি মিল থেকে এনেছেন। কিন্তু সিরাজ তার চাল নয় বলে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে রহস্যজনক কারণে সন্ধ্যায় ৬০ টন চাল ভর্তি চারটি ট্রাক ছেড়ে দেন ইউএনও এবং গুদাম কর্মকর্তা।

গত ৮ জানুয়ারি এক কৃষকের নামের ধান আরেক কৃষক গুদামে বিক্রি করতে এসে ধরা পড়ে। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এসব বিষয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে গুদাম কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচাতে পরের দিন দুই ছাত্রের নামে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। অথচ গুদাম কর্মকর্তা আবুল বাসার নিজেই ওই ছাত্রের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য সরকারি বস্তা সরবরাহ করেছিলেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি মাসুদ কামাল জানান, রংপুর থেকে চাল নিয়ে এসে ভালুকা খাদ্যগুদামে বিক্রি করার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কাজের সঙ্গে জড়িত যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভালুকার খাদ্য কর্মকর্তা হাসান আলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj