কুতুবদিয়ায় ঘামের দাম পাচ্ছেন না লবণ চাষিরা

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এম এ মান্নান, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) থেকে : হাড়ভাঙা কষ্ট করেও উৎপাদিত লবণের দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। দিন-রাত কাজ করে লাভবান তো দূরের কথা, শরীর থেকে ঘাম ঝরার দাম পান না তারা। কুতুবদিয়ায় চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমে দুদফা বিরূপ আবহাওয়ায় এমনিতেই উৎপাদন কমে গেছে। দরপতনে দিশেহারা প্রান্তিক চাষিরা। হাট-বাজারে বাজারজাত লবণের দাম আকাশচুম্বী হলেও মাঠে পাতালমুখী। এর দায় কে নেবে? উত্তর কৈয়ারবিল লবণ মাঠের চাষি কামাল হোসেন, মধ্যম কৈয়ারবিল লবণ মাঠের চাষি জিয়াউল হক বাদশা বলেন, এক একর ২০ শতক (৩ কানি) লবণ জমি লাগিয়ত নিয়েছেন ৯০ হাজার টাকায়। পুরো মৌসুমের জন্য একজন শ্রমিকের বেতন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। পলিথিন, পানি সরবরাহ বাবদ আরো ২৭ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে ৩০০ মণ। প্রতি মণ লবণের দাম মাঠে ১৩০ টাকা। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর ৪০০ মণ হতে পারে। সব মিলিয়ে লোকসান থাকবে অন্তত লাখ টাকা। লবণের দাম মণপ্রতি ৩০০ টাকা না হলে খরচ তোলা সম্ভব হবে না বলে তারা জানান।

পাশর্^বর্তী মাঠের জিয়াউদ্দিন বলেন, লবণের দাম না থাকায় মাঠেই গর্তে জমা করছেন লবণ। দাম না বাড়লে পথে বসতে হবে তাদের। আশায় আছেন যদি দাম বাড়ে। তারা আরো বলেন, লবণের দাম এমন পর্যায়ে নেমে গেছে যে, অনেক চাষি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি থাকলে তারা আর লবণ উৎপাদনে অর্থ, শ্রম দেবেন না। লেমশীখালী ইউনিয়নের একজন লবণ চাষি বলেন, মোল্লা সল্ট, পুবালী সল্টের কোম্পানিরা দক্ষিণাঞ্চলের মাঠের লবণ ক্রয় করেন না। তারা কোথায় থেকে লবণ ক্রয় করে মিল চালায় তা বোধগম্য নয়। তাদের ধারণা সরকার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত লবণই তাদের ভরসা। ফলে মাঠ পর্যায়ে চাষিরা লবণের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অপরদিকে সাগর থেকে ¯øুইস গেট দিয়ে ভিতরে পানি সরবরাহের খালগুলো ক্রমশ ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া উভয় দিকে লবণ মাঠ প্রতি বছর বাড়িয়ে দেয়ায় মরা খালে পরিণত এখন। জোয়ারের সময় দ্রুত পানি মেশিন দিয়ে নিতে না পারলে খাল শূন্য হয়ে পড়ে। এক খাল থেকে ছোট খালে পানি আনায়নে খরচও দ্বিগুণ পড়ে যাচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে লবণ উৎপাদণে চাষিদের খরচ পড়ছে বেশি, বিক্রিতে দাম ধরাশায়ী। উত্তর ধুরুং এলাকার লবণ ব্যবসায়ী মৌলভী মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, তারা মাঠে চাষিদের মাঝে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন লবণ উৎপাদনে। গত ৪/৫ দিন আগে হঠাৎ দাম পড়ে যাওয়ায় তাদের লগ্নিকৃত টাকা উঠছে না। প্রতি মণে ৩৫/৪০ টাকা লবণ পরিবহন, লেবার জেটি খরচ দিয়ে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে চাষি ব্যবসায়ী উভয়েই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj