নওগাঁয় বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ

বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মো. আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁ থেকে : নওগাঁয় অন্যান্য কৃষি ফসলের পাশাপাশি সুস্বাদু পুষ্টিকর রসালো ফল মাল্টা চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এজন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। অন্যান্য ফল ও ফসলের দাম কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাল্টার দিকে ঝুঁকেছেন তারা। চাষিরা বলছেন, নতুন জাতের ফল ও ফসলের প্রতি সবারই আগ্রহ থাকে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা যে কোনো ফলের প্রতি ক্রেতাদেরও আগ্রহ থাকে এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে কৃষকরা মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছেন। এছাড়া মাল্টা চাষে আবহাওয়া অনুক‚ল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহিষ্ণু হওযায় কৃষকরা এর চাষ দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, মাল্টা একটি সুস্বাদু ফল। জেলায় সুস্বাদু এ পুষ্টিকর রসালো ফল চাষ করা হচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরাও অন্যান্য ফসল চাষের পাশাপাশি মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকদের নতুন ফল ও ফসলের প্রতি আগ্রহ থাকে। জেলার কয়েকটি এলাকায় ভারমিক পদ্ধতিতে বারি-১ মাল্টা চাষের উপযোগী জমিতে চাষ করা হচ্ছে। যেখানে কৃষকরা ধানের পাশাপাশি মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের মাল্টা গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় মাল্টার ফলন ভালো হয়।

গত ৩ বছর থেকে নওগাঁয় মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। গত বছর সুস্বাদু রসাল এই মালটা স্থানীয় বাজারে স্বল্প আকারে বিক্রি করা হয়েছিল। কোনো ধরনের রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই জমি থেকে মাল্টা বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা স্থানীয় এসব ফল কিনতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী বলে মনে করছেন চাষিরা। জেলার রানীনগর উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামের মাল্টা চাষি মাসুদ পারভেজ বলেন, বছর বছর ধানের দাম কমায় লোকসানে পড়তে হয়েছে। কোনো ফল বা ফসলের দাম একবার পাওয়া গেলে কৃষকরা পরের বছর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই আবাদ করেন। এতে একই ফসল বাজারে থাকায় দাম কম পাওয়া যায়। গত ২০১৮ সালে এক একর জমিতে কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনী নিয়ে ও নিজে কিছু বারি-১ জাতের মাল্টার চারা দিয়ে শুরু করেছি। বাগানে প্রায় ২০০টি মাল্টার গাছ আছে। মাল্টা চাষে কৃষি অফিস থেকে সার্বিক পরামর্শ সেবা পাচ্ছি। প্রথম দফায় ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি।

রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রোগ-বালাই না থাকায় বারি ১ জাতের মাল্টা চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। যেহেতু স্বল্প পরিমাণে মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। আগামীতে এর আবাদ আরো বেড়ে যাবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj