রানের রেকর্ড গড়ে চালকের আসনে টাইগাররা : মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপটে খেলেছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে পাত্তাই পাচ্ছে না সফরকারীরা। গতকাল দীর্ঘদিন পর নজরকাড়া ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। জিম্বাবুয়ে বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন তারা। সেকান্দার রাজা-ডোনাল্ড তিরিপানোকে পিটিয়ে তুলাধুনা করেছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা। এদিন মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি, মুমিনুল হকের অনবদ্য সেঞ্চুরি, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছে তারা। মুশফিকুর রহিমের অনন্য কীর্তির পর চালকের আসনে থেকেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবে স্বাভাবিকভাবেই এত রানের চাপে পিষ্ট সফরকারীরা। তাই কঠিন এ চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯ রান। ২টি উইকেট শিকার করেছেন অফস্পিনার নাঈম। সফরকারীরা এখনো ২৮৬ রানে পিছিয়ে আছে। দিন শেষে টেইলর ৯ বলে ১ ও কাসুজা ১৮ বলে ৮ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।

তবে আজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ৮ উইকেট। তাই বল হাতে নাঈম, রাহী ও তাইজুলরা জ্বলে উঠলেই টাইগারদের জয় কয়েক মুহূতের অপেক্ষা।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৪০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। গতকাল মুমিনুল হক ৭৯ এবং মুশফিক ৩২ রান নিয়ে খেলার গোড়াপত্তন করেন। নেমে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকেন তারা। শক্তভাবে ক্রিজে সেট হয়ে যান এ জুটি। স্বভাবতই ছন্দময় ব্যাটিং উপহার দেন মুমিনুল-মুশফিক। জিম্বাবুয়ে বোলারদের রীতিমতো তোপ দাগান তারা। ব্যাটে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে পথিমধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। তবে অধিনায়ক হিসেবে এটি তার প্রথম তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস। ডোনাল্ড তিরিপানোকে বাউন্ডারি মেরে এ শতক হাঁকান তিনি। ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯ সেঞ্চুরির মালিক তামিম ইকবাল। এদিন দুর্দান্ত শতক দিয়ে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান মুমিনুল। এর সুবাদে ক্রিকেটের লংগার ভার্সনে পয়েট অব ডায়নামোর সেঞ্চুরির সংখ্যাও দাঁড়ায় ৯টি। এরপর সেঞ্চুরি পথে এগিয়ে যান মুশফিক। লাঞ্চের পর এন্সলে এনদিলোভুকের বলে চার মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি। মুশির সবশেষ সেঞ্চুরিও জিম্বাবুইয়ানদের বিপক্ষে। গেল নভেম্বরে ঘরের মাঠে ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি। পরক্ষণেও দারুণ ব্যাটিং করেন মুমিনুল-মুশফিক। জমাট বেঁধে যায় তাদের জুটি। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। এনদিলোভুর কট এন্ড বোল্ড হয় মুমিনুল। ফেরার আগে ১৪ চারে ১৩২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে মুশির সঙ্গে ভাঙে তার ২২২ রানের জুটি। এ পথে অনন্য রেকর্ড গড়েন মুমিনুল-মুশফিক। এতদিন টেস্টে দুটি করে দুইশ রানের জুটি ছিল তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের। দুই মিডলঅর্ডারেরও ছিল তাই। এবার দুই ওপেনারকে ছাড়িয়ে গেলেন পয়েন্ট অব ডায়নামো ও মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তাদের দুইশ রানের জুটি হলো তিনটি।

পরে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে ব্যর্থ হন তিনি। মুশফিককে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। যদিও শুরুটা করেন ঝলক দেখিয়ে। তবে ব্যক্তিগত ১৭ রানে থেমে যান মিঠুন। তার পর ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে নেমেও সাবধানী শুরু করেন লিটন দাস। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে শট খেলতে শুরু করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চম ফিফটি তুলে নেন লিটন। তবে ফিফটির পর বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। সিকান্দার রাজার বলে বিদায় নেন। তবে মুশফিক ঠিকই ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে জিম্বাবুয়ে বোলারদের কচুকাটা করেন। সেই সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। তার ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় দুইশ ছোঁয়া ইনিংস। এদিন আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। ৪ হাজার ৪১৩ রান নিয়ে সবার ওপরে মুশি। তার চেয়ে ৮ রান কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ৩ হাজার ৮৬২ রান নিয়ে তৃতীয় সাকিব আল হাসান। মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি হওয়া মাত্রই ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। এতে ২৯৫ রানের লিড নেন টাইগাররা। মুশফিক ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন। অপর প্রান্তে ১৩ রানে টিকে থাকেন তাইজুল ইসলাম। আর ৭১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj