চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন : রেজাউল করিমকে জেতাতে একাট্টা চট্টগ্রাম আ. লীগ

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করতে দলীয় কোন্দল ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন দলের নেতাকর্মীরা। কেউ বিরোধিতা করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলীয় মেয়র প্রার্থীকে যে কোনো মূল্যে জেতাতে কৌশল নির্ধারণে ও দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

গত রবিবার রাতে নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দিক-নির্দেশনা জানাতে গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম নগরের আওতাধীন ওয়ার্ড ও থানা কমিটি এবং কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়কারী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির উদ্যোগে রুদ্ধদ্বার সভাটি রবিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার নেতারা ছাড়া অন্য কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সভায় কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনবঞ্চিত ও সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করবেন। যাদের নেগেটিভ ইমেজ রয়েছে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম থেকে দূরে থাকবেন। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর বিরোধিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের চিরতরে বহিষ্কার করারও প্রস্তাব আসে। সাংসদরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় ও বর্তমান মেয়র নেতাকর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন।

সভায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে রেজাউল করিমকে জিতিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামের মেয়র উপহার দিতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমদ হাসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন ও দলীয় মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়াও সভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের অন্যান্য যেসব নেতা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, আবদুচ ছালাম, আলতাফ হোসেন বাচ্চু বক্তব্য রাখেন।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, উত্তর জেলার সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, এম.এ লতিফ এমপি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, দিদারুল আলম এমপি, মাহফুজুর রহমান এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানসহ তিন সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতারা।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী দীর্ঘদিনের পুরনো এবং পরীক্ষিত রাজনীতিক। উনাকে যে কোনো মূল্যে জিতিয়ে আনাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।

সভায় মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেন, রেজাউল করিম আমাদের দলীয় প্রার্থী। তাকে জিতিয়ে আনতে যা যা করার দরকার, সবই করবো। আমরা নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিরোধিতা ঠেকাতে তাদের ডেকে মতবিনিময় করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে অনুরোধ জানান তিনি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj