কমিশন বাণিজ্যে বাধাগ্রস্ত অগ্রাধিকার প্রকল্প : কক্সবাজার এলএ শাখায় সক্রিয় আইনজীবীসহ ৯০ দালাল

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার এলএ শাখায় অন্তত ৯০ জন দালাল সক্রিয় রয়েছেন। এরাই কমিশন বাণিজ্য করতে সুযোগ করে দিচ্ছেন সার্ভেয়ারদের। নির্ভেজাল জমিতেও ভুয়া মামলা এনে জমির মালিকদের হয়রানি করে যাচ্ছেন এসব দালালচক্র। ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে পথে বসিয়েছেন অসংখ্য জমির মালিককে। তাই দালালদের চিহ্নিত করতে ২০১৭ সালে প্রকাশিত তালিকা হালনাগাদ করার দাবি জানিয়েছেন জমির মালিকরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবু সালামের স্বাক্ষরে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ৩৮ জন দালালের তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় যাদের নাম ছিল তারা হলেন- মো. রফিক ওরফে ভেন্ডার রফিক, সাহাব উদ্দিন, সানা উল্লাহ, রনি, হেলাল, ফজল কাদের, আমির খলিফা, আলি মিয়া, বাবর চৌধুরী, শাহাদত হোসাইন, ছৈয়দ নুর, আবুল কাশেম, মৌলভী বশর, নুরুল আবচার, হাজি ফরিদ, মো. মামুন, হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফিজ, হোছাইন, আরেফ আলী, আবুল হাশেম, সাদ্দাম হোসাইন, হাজী ছৈয়দ, নুরুল আবছার, শফিক, আমান উল্লাহ, মো. ইব্রাহিম, সোহেল, আবদুল মতিন, আছাদ উল্লাহ, মৌ. হাবিবুর রহমান, রিদুয়ান, সরওয়ার, দিদার, চট্টগ্রামের মুছা, ঢাকার মিঠুন, আহাদ, উখিয়ার হেলাল উদ্দিন ও বশর। প্রকাশিত দালালের তালিকা থেকে কয়েকজন জেলহাজতে রয়েছেন ও কয়েকজন অন্যত্র চলে গেছেন। এসব দালালের মধ্যে ২৩ কোটি টাকা লোপাটে জড়িত দালালও রয়েছেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত তালিকার কয়েকজন দালালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত বছর মাতারবাড়ি প্রকল্প ছাড়াও রেললাইন প্রকল্প ও মহেশখালীর কালারমারছড়া এবং হোয়ানকে জমি অধিগ্রহণ শুরু হলে দালালের সংখ্যা বেড়ে যায়। এলএ শাখা কেন্দ্রিক দালালিতে জড়িয়ে পড়েন অন্তত ২৫-৩০ জন আইনজীবী। অনেক আইনজীবী নিজের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন এলএ শাখায় দালালি করার জন্য। যার ফলে এলএ শাখার অফিস আরো একটি বৃদ্ধি করা হয়। নতুন দালালদের মধ্যে তৎপরতা রয়েছে শাপলাপুর ইউনিয়নের সেলিম, হোয়ানকের ইব্রাহিম (হোটেল গার্ডেনে অফিস), মাতারবাড়ি রাজঘাটের হেলাল, শাপলাপুরের দিদার (হোটেল নিরিবিলিতে অফিস), কালারমারছড়া ইউনিয়নের আবদুল হান্নান, একই এলাকার আধাঁরঘোনার মৃত সিকদার মিয়ার পুত্র আমান উল্লাহ, মৃত নজির আহমদের পুত্র আবুল হোসেন, মৃত দৌলত মিয়ার পুত্র বাদল, কালারমারছড়ার নুনাছড়ি এলাকার লকিয়ত উল্লাহ, মাতারবাড়ির হোছাইন (অফিস হোটেল নিরিবিলি), ধলঘাটা ইউনিয়নের তাজউদ্দিন (হোটেল সৈয়দিয়ায় অফিস), পেশকারপাড়া এলাকার মো. মুবিন ওরফে উত্তরবঙ্গের মুবিন, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাগর, ডুলাহাজারার মিনহাজ, টার্মিনাল এলাকার হানিফ, সুগন্ধা পয়েন্টের ওয়াসিম, ঈদগাঁও এলাকার মো. তৈয়ব, রশিদ নগর ইউনিয়নের মো. শাহজাহান, ঘোনারপাড়ার আলমগীর টাওয়ারের মালিক আলমগীর, ধলঘাটার মো. শফিউল আলম (গাড়ির মাঠ), শহরের কলাতলী এলাকার সাজ্জাদ প্রমুখ। চলমান অভিযান থেকে বাঁচতে তারা প্রত্যেকেই গা ঢাকা দিয়েছে।

এসব দালালের মধ্যে ভয়ঙ্কর খতিয়ান জালিয়াতিতে জড়িত ডুলাহাজারার মিনহাজ ও কালারমারছড়ার সিকদার মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ। তারা খতিয়ান জালিয়াতি করে ইতোমধ্যে অসংখ্য জমির মালিককে পথে বসিয়েছেন। ইতোমধ্যে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৯৩ লাখ টাকাসহ ওয়াসিম নামে একজন সার্ভেয়ারকে গ্রেপ্তার করলেও এখনো চলছে কমিশন বাণিজ্য।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, দালালের খপ্পরে না পড়ার জন্য বারবার সবাইকে বলা হচ্ছে। যে কোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সরকারি অফিস মানুষের সেবার জন্য। হয়রানি বা অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। কেউ অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj