অবসান হলো সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য! : মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যা বললেন সালমানের বন্ধু ডন

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিনোদন প্রতিবেদক : অবশেষে অবসান হলো সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনে জানা গেল, হত্যা নয়, আত্মহত্যাই করেছিলেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। পারিবারিক কলহের জেরেই আত্মহত্যা করেন তিনি। মেলেনি হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ। তাই সালমান খুনে অভিযুক্তরা সব দায় থেকে মুক্ত হলেন। পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। তিনি বলেন, অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম। আমি সবসময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। ২৪টা বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ আমাকে নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার পূরণ কিছুতেই হবে না। আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম। সত্য কোনো দিন মিথ্যা হয় না। মিথ্যাকেও কোনো দিন জোর করে সত্যি বানানো যায় না। সালমান শাহ ছিল আমার কলিজার বন্ধু। এটা এই ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। তার মৃত্যুতে কিন্তু আমারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো। নায়ক-ভিলেন হিসেবে আমাদের যে জুটি ছিল সেটি তরুণদের কাছে অনেক অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান চলে যাওয়ার পর আমিও আর সিনেমায় তেমনভাবে নিয়মিত হতে পারিনি। তবু আমার ওপর বন্ধু খুনের মিথ্যা দায় চাপানো হলো। কত কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা আমি সয়েছি দীর্ঘ এই ২৪ বছর সেটা আমিই কেবল জানি। পিবিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডন বলেন, আইন যা বলে তার ওপর কারো কিছু করার নেই। সালমান হত্যার তদন্তের জন্য অনেক তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ পিবিআই তদন্ত করল। তারা অনেক সময় কাজটি করেছে। আমাকেও ডেকেছিলেন দুই মাস আগে। গিয়েছি। জবানবন্দি দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকেই তারা তলব করা হয়েছে বলে শুনেছি। তার ভিত্তিতে এ আত্মহত্যার প্রতিবেদন এলো। আমি দেশের আইন ব্যবস্থা এবং পিবিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে দুই যুগ ধরে চলে আসা একটি রহস্যের মীমাংসা তারা করেছেন।

সালমান শাহ ঢাকাই চলচ্চিত্রে এক অপ্রতিদ্ব›দ্বী নায়কের নাম। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে তার অভিষেক। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ২৭টি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। সালমানের অধিকাংশ ছবির নায়িকা ছিলেন শাবনূর। সংখ্যায় যা ১৪টি। একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিল এই জুটি। ‘মায়ের অধিকার’ ছাড়া বলা চলে সবগুলো ছবিই সুপারহিট ছিল। শুটিংয়ের সুবাদে দুজনের মধ্যে ভালো একটি সম্পর্কও গড়ে ওঠে। সে নিয়ে অনেক মুখরোচক আলোচনা হতো ফিল্মপাড়ায়। গতকাল ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা নিয়ে ব্রিফিং করে পিবিআই।

ব্রিফিংয়ে সালমান হত্যায় ঘুরেফিরে নায়িকা শাবনূরের প্রসঙ্গ আসে। সালমানের স্ত্রী সামিরার উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আর সালমান তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সালমানের আত্মহত্যার আগেরদিন তার ডাবিং দেখতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন সামিরা। ডাবিং রুমে শাবনূর ও সালমানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেন তিনি। এতে সামিরা রাগ করে বের হয়ে যান। রাতে সালমানকে বেশ কয়েকবার ফোনও করে শাবনূর।

পিবিআই এমন তদন্ত তুলে ধরার পর শাবনূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সিডনি থেকে শাবনূর বলেন, ‘একজন মৃত মানুষের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কথা বলাটা খ্বু বিশ্রী মনে হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে এমন কথা কেন বলা হচ্ছে, তা আমি জানি না। আমি এটার ঘোর বিরোধিতা করছি। সালমান শুধুই আমার নায়ক ছিল, সহশিল্পী ছিল, বন্ধু ছিল। এর বাইরে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি আগেও বলেছি, তাকে আমি ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। পরিচ্ছন্ন সম্পর্ক ছিল আমাদের। এটা নিয়ে কেউ কিছু বললে তা তো আমি মানবই না। একজন মরা মানুষকে নিয়ে এত বছর পর এত বিশ্রী কথা বলার মন-মানসিকতা কীভাবে সবার হয়, সেটাও আমি বুঝি না।’

উল্লেখ্য, সালমান শাহর আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে পিবিআইয়ের পক্ষ আরো জানানো হয়, সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়ার বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা। প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ।

বিনোদন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj