যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যত যুদ্ধ

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতে নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দেশেই নাক গলাতে আসে। ফলে সেসব দেশের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। মেক্সিকো থেকে শুরু করে ইরান পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে দেশটি। তারই ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হলো-

মেক্সিকো যুদ্ধ : মেক্সিকো যুদ্ধই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যুদ্ধ। এটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস কে পোলকের চাপিয়ে দেয়া একটি যুদ্ধ। ১৮৪৬-৪৮ সালে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই দুই বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে। এ যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল টেক্সাস। যা এক দশক আগে মেক্সিকোর কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। চূড়ান্তভাবে জয়ী হওয়ার পর মেক্সিকোর ভূখণ্ডের ৩ ভাগের ১ ভাগ আমেরিকার দখলে চলে যায়। মেক্সিকো যুদ্ধে ১৩ হাজার ২৮৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়।

স্পেন যুদ্ধ : ১৮৯৮ সালে স্পেনের সঙ্গে যুদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। এটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধ ছিল। একে ইতিহাসের প্রথম ‘গণমাধ্যম যুদ্ধ’ বলা হয়। মনরো মতবাদের প্রেক্ষাপটে মার্কিন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে এ যুদ্ধ ঘোষণা করে। চার মাস স্থায়ী সেই যুদ্ধে ২ হাজার ৪৪৫ মার্কিন সদস্য মারা যায়। বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার স্প্যানিশ সৈন্য প্রাণ হারায়। এ যুদ্ধের ব্যয় ধরা হয় ১০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ঊনবিংশ শতকের শেষভাগেই একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

জার্মানি যুদ্ধ : ১৯১৪ সালে ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হয়। একে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়। এ যুদ্ধের প্রথম তিন বছর যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ ছিল। ১৯১৭ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়। তার ১৯ মাস পর বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। এ যুদ্ধে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১৬ জন মার্কিন সেনা মারা যায়। এতে ৩৮১.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় যুদ্ধ : ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে জাপানিদের বোমা বর্ষণের পরদিনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রজোটে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার তিন দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রও দেশ দুটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। ১৯৪৫ সালের মে মাসে ইউরোপীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। আগস্টে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রæম্যান জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলার নির্দেশ দেন। যার আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে সে বছরই আত্মসমর্পণ করে জাপান।

কোরিয়ান যুদ্ধ : ১৯৫০ সালে কোরিয়ান যুদ্ধের শুরু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রæমান উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ থেকে উৎখাত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমর্থন নেয়। তৎকালীন মার্কিন জেনারেল ডগলাস ম্যাক আর্থারের কাজকে যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করে সংঘর্ষে জড়ায় চীন। ডুইট আইজেনহোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ যুদ্ধ শেষ হয়। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮৯.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়। এতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মারা যায়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ : এটি মার্কিন ইতিহাসের এক ব্যর্থ যুদ্ধ। ১৯৫৪ সালে ভিয়েতনামিরা ফরাসিদের পরাজিত করে উপনিবেশবাদ যুগের অবসান ঘটায়। ১৯৫৫ সালে আঞ্চলিক একটি সংঘাত থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ রূপ নেয়। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রতিশ্রæতি দেয়ার পর দিয়েমকে হত্যা করা হয়। নতুন সামরিক নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ ভিয়েতনামি সরকার ভিয়েতনামিদের সমর্থন হারাতে শুরু করে। ষাটের দশকের শেষদিকে যুদ্ধের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনসাধারণের সমর্থন হারাতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা। ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের কাছে পরাজিত হয়। এ যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮৪৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। যুদ্ধে ৫৮ হাজার সেনা নিহত হয়।

ইরাক যুদ্ধ : প্রচলিত আছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ইরাকে হামলা চালায়। ইরাকের এ সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ১ ট্রিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়। সাদ্দামের কাছে ব্যাপক অস্ত্র রয়েছে বলে মার্কিন সেনারা ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণ করে। দেশটি এখনো সংঘাত ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত। এখন পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের সেই বিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারেনি আমেরিকা। ৭ বছর ৫ মাসব্যাপী এ যুদ্ধে ৪ হাজার ৪১০ জন মার্কিন সেনা মারা যায়।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj