হলিউডের নতুন দুই সিনেমা

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

হলিউডের নতুন দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সে। একটি অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ছবি, অন্যটি হরর ছবি। প্রখ্যাত মার্কিন ঔপন্যাসিক জ্যাক লন্ডনের সাড়া জাগানো উপন্যাস অবলম্বনে অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ছবি ‘দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড’ পরিচালনা করেছেন ক্রিস স্যান্ডার্স। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যারিসন ফোর্ড, ড্যান স্টিভেনস, ক্যারেন গিলান, ব্র্র্যাডলি হুইটফোর্ড প্রমুখ। অন্যদিকে, হরর ছবি ‘ব্রামস : দ্য বয় ২’ হলো ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দ্য বয়’-এর সিক্যুয়েল। অতিপ্রাকৃত এই হরর কাহিনীচিত্রের পরিচালক উইলিয়াম ব্রেন্ট বেল। চিত্রনাট্যকার স্ট্যাসি মেনিয়ার। অভিনয় করেছেন কেটি হোমস, ক্রিস্টোফার কনভেরি, রাফ ইনেসনসহ আরো অনেকে

ব্রামস : দ্য বয় ২

নিজের দুঃসহ অতীত ভুলতে চান মার্কিন তরুণী গ্রেটা। তাই নতুন চাকরি নিয়ে চলে যান ইংল্যান্ডের ছোট্ট এক গ্রামে। বিত্তশালী এক দম্পতি দীর্ঘ ছুটি কাটাতে যাবেন। এ সময় তাদের ৮ বছর বয়সী ছেলেকে দেখাশোনাই গ্রেটার দায়িত্ব। তিনি সেই প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে টের পেলেন, কোথাও যেন একটা গোলমাল আছে। তার নিয়োগদাতা হিলশায়ার দম্পতির বয়স বিস্ময়কর রকমের বেশি। ছেলে ব্রামসের যতœ কীভাবে নিতে হবে, তা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা সংবলিত একটা তালিকা গ্রেটার হাতে ধরিয়ে দেন তারা। আর সতর্ক করে দেন, এসব নিয়ম ঠিকঠাক না মানলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। তবে সবচেয়ে গোলমেলে ব্যাপারটা হলো, ব্রামস আসলে ছোট্ট শিশু নয়, বরং ঠিক সেই আকারের একটি চীনামাটির পুতুল। কিন্তু তাকে হিলশায়ার দম্পতি নিজেদের আসল ছেলের মতোই যতœ করেন এবং গভীর ভালোবাসেন। তারা গ্রেটাকে কড়া নির্দেশনা দেন, ‘যদি ওকে ভালোবাসো, বিনিময়ে সেও তোমাকে ভালোবাসবে।’ প্রবীণ দম্পতি ছুটিতে চলে যাওয়ার পর গ্রেটা ওই ভুতুড়ে বাড়িতে বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন, প্রতিবার একেকটা নিয়ম ভঙ্গ করার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে অদ্ভুত কিছু ব্যাপার ঘটে। আর পুতুলটাকে ঠিক যে জায়গায় রাখেন, সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় চলে যায়! তাহলে কি পুতুলটা জীবিত? স্থানীয় মুদি দোকানের একজন কর্মচারী ছাড়া আশপাশে আর কোনো জনমানুষের দেখা নেই। অগত্যা তার সাহায্য নেন গ্রেটা। এক পর্যায়ে জানতে পারেন হিলশায়ার পরিবারের বেদনাদায়ক অতীত। ব্রামসের মৃত্যু হয়েছে বহু বছর আগেই- এমন কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছিল প্রথম ছবি ‘দ্য বয়’। এবারের ছবির কাহিনী এগিয়েছে সেই সূত্র ধরেই। এ ছবিতে দেখা যাবে, এক তরুণ দম্পতি তাদের ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যায় হিলশায়ারের এক গেস্ট হাউসে। ছেলে সেখানে একটি পুতুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যার নাম ব্রামস। এক পর্যায়ে তার বাবা-মা আবিষ্কার করে তাদের ছেলে আর পুতুলটির মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনার মুখোমুখি হয় তারা। আগের ছবির থেকে এ ছবি কোনো অংশে কম নয়। ইতোমধ্যে ছবির ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে কয়েকটি দৃশ্যের নাটকীয়তা এতই বেশি যে রুদ্ধশ্বাস অবস্থা তৈরি হয়। তাই আশা করা হচ্ছে হরর ছবির দর্শকদের হলে টানতে সক্ষম হবে ছবিটি।

দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড

প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যেই ভালো-খারাপ দুটি সত্তা বিদ্যমান। এছাড়া সব প্রাণীর মধ্যেই স্বাধীনতা লাভ করার একটা চেতনা থাকে। এমনই কিছু বিষয়বস্তুর আঙ্গিকে বিখ্যাত আমেরিকান ঔপন্যাসিক জ্যাক লন্ডন রচনা করেছেন ‘দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড’। তখন বিংশ শতাব্দী শুরু হয়েছে সবে। স্বর্ণ সন্ধানী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষেরা সুবিশাল পৃথিবীর নানা অদেখা প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখনো যান্ত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা অতটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বন্য পরিবেশে যোগাযোগব্যবস্থার একমাত্র অবলম্বন ছিল কুকুরের টানা ¯েøজ ও ঠেলাগাড়ি। অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এ ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বাক’ নামের একটি কুকুরের জীবনকে ঘিরে। ‘বাক’ই এই সিনেমার মূল নায়ক। বাক একটি অতি প্রিয় ও আদুরে কুকুর হিসেবে তার সম্পদশালী মালিকের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করত। কিন্তু তার জীবন এক নাটকীয় মোড় নেয় যখন তার মালিকের এক বিবেকবর্জিত চাকর তাকে চুরি করে বিক্রি করে দেয়। সে প্রথমবারের মতো খাঁচায় আবদ্ধ হয়। যেখানে বিক্রি করা হয় সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাথমিক উপায় কুকুর-টানা গাড়ি। বাককে অতি দ্রুত তার নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলো একটি ¯েøজ কুকুর হিসেবে, যেখানে টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগিতা করতে হয়। বাক দ্রুতই সবকিছু শিখে নিল। এতে তার শারীরিক গঠন ও প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা সহায়তা করল। সে এত দ্রুতই মানিয়ে নিল যে শিগগিরই তাকে ¯েøজ কুকুরদের মধ্যে নেতা বানিয়ে দেয়া হলো। তার জীবনে আবার পরিবর্তন এলো যখন তাকে হ্যাল ও তার স্ত্রীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হলো, যারা ¯েøজ সম্পর্কে ও পশুদের যতœ নেয়া সম্পর্কে কিছুই জানে না। সেখানে তার জীবনে মৃত্যু প্রায় আসন্ন হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো উদার ও দয়ালু জন থর্নটনের হস্তক্ষেপে। শেষ পর্যন্ত বাক এমন একজন মনিব খুঁজে পেল যিনি তাকে ভালোবাসেন। যদিও তার এই সুখের জীবন স্থায়ী হয়নি বেশিদিন। কারণ তার মনিব জন থর্নটন এক অসভ্য আদিবাসী গোষ্ঠীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন। এরই মধ্যে বাক তার পরিচয় সম্পর্কে ভাবে এবং আপন ভাগ্যের খোঁজে জঙ্গলে হারিয়ে যায়। এর আগে অবশ্য প্রিয় মনিব হত্যার প্রতিশোধ পুরোপুরিভাবে আদায় করে নেয়। জ্যাক লন্ডন একটি কুকুরের পরিপ্রেক্ষিতে তার সমসাময়িক সমাজ বিশ্লেষণ করেছেন। পরিচালক ক্রিস স্যান্ডার্সও গল্পটিকে সেভাবে সিনেমায় ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। তার নির্মাণশৈলী ইতোমধ্যে ছবিটিকে প্রশংসা এনে দিয়েছে।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj