ছিটমহলে আমিষের উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যে সকল বিলুপ্ত ছিটমহল ও আছে। সেগুলোতে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেইসাথে দেশের নদীবিধৌত চরাঞ্চলেও একই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বাড়ানো এবং লাগসই প্রযুক্তি স¤প্রসারণ করা সরকারের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রংপুর বিভাগের চার জেলার ৯টি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৮৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের ৯টি জেলার ৪০টি উপজেলার ১৭৫টি ইউনিয়নের এক হাজার চারটি নদীবিধৌত চরের ৪ লাখ ৭ হাজার ১২টি পরিবার উপকৃত হবে। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার সদর, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ি উপজেলা এবং লালমনিরহাট জেলার সদর, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত ছিটমহলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডিমলা, লালমনিরহাট জেলার সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলার সদর, রাজারহাট, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা, জামালপুর জেলার সদর, মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, সারিষাবাড়ি ও বকশীগঞ্জ উপজেলা, বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর, কাজিপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী এবং পাবনা জেলার সদর, ঈশ্বরদী, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার নদীবিধৌত চরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপিতে বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি গত মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই ৪ লাখ ৭ হাজার ১২টি সুফলভোগী পরিবার নির্বাচন করে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ অনুদান বিতরণ করা হবে। এসব পরিবার সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানে গরু, মহিষ, ছাগল ও হাঁস-মুরগির খামার গড়বেন।

প্রকল্প এলাকায় ২১৫টি ঘাসের প্রদর্শনীর জন্য প্লট তৈরি করা হবে। যেখান থেকে খামরে পালিত গবাদি পশুর খাদ্যের যোগান দেওয়া হবে। ২১৫টি সাইলেজ প্রদর্শনী এবং ২০১টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রদর্শনী ¯’াপন করা হবে। সুফলভোগী খামারি ও প্রকল্প এলাকা সংলগ্ন ৮টি সরকারি খামারে প্রাণিখাদ্য সরবরাহ করা হবে।

২০১ জন খণ্ডকালীন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর নিয়োগ এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ সরবরাহ করা হবে। ৪৭ হাজার ৪৪২ জন সুফলভোগী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চতুর্থ অধ্যায়ে প্রাণিসম্পদ সাব-সেক্টরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে প্রাণিজাত খাদ্য ও গোখাদ্যের ব্যব¯’াপনাকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলের অবহেলিত জনসাধারণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের (গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি) এবং উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন ও সংরক্ষণের ওপর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে। এতে বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে আমিষের চাহিদাপূরণ করে জীবন মান উন্নয়ন সম্ভব হবে। এসব বিবেচনায় আলোচ্য প্রকল্পটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj