হিলি স্থলবন্দর : সাত মাসে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ২৩ কোটি টাকা

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সাত মাসে ১৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ১১৩ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে সাত মাসে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে ২৭১ কোটি ৬১ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সে মোতাবেক অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আহরণ করা হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার বিপরীতে ৯ কোটি ৩১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে ১৪ কোটি ১৬ লাখ, অক্টোবরে ১৬ কোটি ২৩ লাখ টাকার বিপরীতে ১১ কোটি ৭৯ লাখ, নভেম্বরে ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে ১৮ কোটি ২৬ লাখ, ডিসেম্বরে ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিপরীতে ২৪ কোটি ৫১ লাখ ও জানুয়ারিতে ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে ২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আহরণ হয়েছে।

রাজস্ব কর্মকর্তা ও আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমে গেছে। আগে বন্দর দিয়ে চাল ও পেঁয়াজ প্রচুর আমদানি হলেও এখন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়লে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।

আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, আগে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, সরিষার খৈল আমদানি হতো। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের প্রথা চালু থাকায় কয়েক বছর ধরে ফল আমদানি একেবারে বন্ধ রয়েছে।

আর সরকার চাল আমদানিতে শুল্কহার বসানোর কারণে প্রতি কেজি চালে এখন শুল্ক আসছে প্রায় ২০ টাকার মতো।

এছাড়া ভারতের তুলনায় দেশে চালের দাম কম। যে কারণে ভারত থেকে চাল আমদানিও এক রকম বন্ধ আছে। এছাড়া আগে প্রচুর পরিমাণে খৈল আমদানি হলেও এখন দেশেই উৎপাদিত সরিষা দিয়ে খৈল উৎপাদন হওয়ায় দেশের চাহিদা মিটছে। এ কারণে ভারত থেকে তেমনভাবে খৈলও আমদানি হচ্ছে না।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj