টেস্টে ব্যর্থতার নেপথ্যে

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। একদিকে যখন জুনিয়ররা বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভাসছে তখন অন্যদিকে সিনিয়ররা রাওয়ালপিন্ডিতে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জায় ডুবেছে। আবার এপ্রিলে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে যাবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল ঢাকা এসেছে। ২২ ফেব্রুয়ারি একমাত্র টেস্টটি মাঠে গড়াবে। কিন্তু তার আগে টাইগারদের টেস্ট পারফরমেন্স ভাবাচ্ছে নির্বাচক তথা বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ডের (বিসিবি) ম্যানেজমেন্টসহ খোদ বোর্ড সভাপতিকে।

জুনিয়র টাইগারদের বিশ্বকাপ জয়ের অনভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। দরকার দলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধাবোধ করবেন না। এছাড়া বাংলাদেশ দলের টেস্ট পাফরমেন্স নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেট এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিদেশের মাটিতে পারফরমেন্স সবার ওপরে। লাল বলের ক্রিকেটকে কীভাবে নিচ্ছেন, কীভাবে পরিকল্পনা করছেন এবং ওই পরিকল্পনায় আমরা পুরোপুরি যেতে পারছি কিনা তা ভাবার বিষয়। পাঁচদিনের ক্রিকেট খেলার মন-মানসিকতা না থাকলে এই জায়গা থেকে ফিরে আসা কঠিন। ক্রিকেটাররা টেস্টে ঘরের মাঠে ভালোই খেলছে। বিদেশে গিয়ে পারছে না। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে ভালো যা করণীয় সেটা করতে হবে।’

২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন পর্যন্ত ১১৮টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এত বছরের পথচলায় টাইগারদের পারফরমেন্স কতটা মলিন, তা বোঝানোর জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ১১৮ টেস্টের মধ্যে পরাজয়ের সংখ্যাই ৮৯টি, যার মধ্যে ইনিংস পরাজয় ৪৩টি। মাত্র ১৩ জয়ের পাশাপাশি ড্রয়ের সংখ্যা ১৬। অর্থাৎ মাত্র ২৯ টেস্টে পরাজয়ের স্বাদ বরণ না করে বাংলাদেশ মাঠ ছেড়েছে। ড্র হওয়া টেস্টের কয়েকটি আবার বৃষ্টির বদান্যতায় কপালে জুটেছিল।

ক্রিকেটারদের টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে না পারা, ব্যাটসম্যানদের বাজে শট খেলে প্রতিপক্ষকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার প্রবণতা, বাউন্স বল খেলার দুর্বলতা, যাচ্ছেতাই ফিল্ডিং, অর্থের ঝলকানিতে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি মনোনিবেশ না করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অতিমাত্রায় আগ্রহ, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়ন না করা এবং নিয়মিতভাবে তা মাঠে না গড়ানো, পেসবান্ধব উইকেট তৈরি না করা, ৩ ফরমেটের আলাদা দল গঠনে নির্বাচকদের ব্যর্থতা- এসবই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বমানের লেগ স্পিনার খুঁজে পাওয়াকে যেন টিম ম্যানেজমেন্ট সোনার হরিণের মতো দুষ্প্রাপ্য মনে করতেই বদ্ধপরিকর। বিপিএল তো বটেই, অতীতে ক্লাব ক্রিকেটেও বারবার দেখা গেছে একাদশে তাদের ওপর ভরসা করে সুযোগ দিতে নেই! লাল বলেই যাদের রেকর্ড একেবারেই পক্ষে কথা বলছে না, গোলাপি বলকে তাদের কাছে বিন্দুমাত্র বোধগম্য এবং পাঠযোগ্য হবে না এটাই তো স্বাভাবিক। এছাড়া টেস্টে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বরাবরই দুর্বল। একটা সময় তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান পেসার বের করে আনার জন্য বিসিবির উদ্যোগে ট্যালেন্ট হান্টের আয়োজন করা হতো, যা এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। অথচ পেস বিভাগে উন্নতি করতে না পারলে এই কাজ খুবই কঠিন।

ইডেন টেস্ট শেষে টাইগারদের ব্যর্থতায় বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন (২৫ নভেম্বর) কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে ভাবছি। এটা নিয়ে সত্যি সত্যি একটা পরিকল্পনা করেছি। যেটা আপনারা দুই-তিন মাসের মধ্যে দেখবেন। টেস্টে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছি। আমার মনে হয় এটা ব্যাটিংয়ে কাজে দেবে।’

বোর্ড সভাপতির এমন আশার বাণীর সফল বাস্তবায়ন হোক। সেইসঙ্গে সঠিক দিকনির্দেশনা, উত্তম পরিকল্পনা প্রয়োগের মাধ্যমে বিভক্তির মাঝেও গোটা দেশের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারা ক্রিকেট যেন দ্রুতই তার কাক্সিক্ষত রূপে ফিরে আসে এমন প্রত্যাশা সবার।

:: আ ত ম মাসুদুল বারী

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj