ক্রীড়াঙ্গনে করোনা আতঙ্ক

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জানুয়ারিতে হঠাৎ করে চীনে ছড়িয়ে পড়ে করোনা নামে একটি প্রাণঘাতী নতুন ভাইরাস। এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন হাজারের ওপর মানুষ। যার প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বে। এই করোনার প্রভাব থেকে বাদ যায়নি ক্রীড়াঙ্গনও। প্রাণঘাতী নতুন ভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যেই বাতিল অথবা স্থগিত করা হয়েছে বেশ কিছু প্রতিযোগিতা। আরো কয়েকটি প্রতিযোগিতা রয়েছে বাতিল বা স্থগিত হওয়ার শঙ্কায়।

১৭ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল চাইনিজ গ্র্যান্ডপ্রিক্সের প্রতিযোগিতা। কিন্তু এই করোনা ভাইরাসের কারণে এটি স্থগিত করে দিয়েছে ফর্মুলা ওয়ানের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চীনে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর হয় এই প্রতিযোগিতা। চাইনিজ গ্র্যান্ডপ্রিক্সের কারণে প্রতি বছরই বাইরে থেকে অনেক দর্শক আসেন। চীনে প্রতি বছর এই সময়টায় এই গ্র্যান্ডপ্রিক্সকে ঘিরে উৎসব উৎসব পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের এই প্রতিযোগিতাটি স্থগিত করে দেয়া হলো। স্থগিত করা হলেও নতুন করে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি আবার কবে চাইনিজ গ্র্যান্ডপ্রিক্সের আসর বসবে তাও বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

চীনের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হলো ফুটবল। তাদের রয়েছে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা চাইনিজ সুপার লিগ। চায়নার ফুটবল লিগে খেলেন বিশ্বের অনেক নামিদামি ফুটবলার। কিন্তু এই করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে এবারের চাইনিজ সুপার লিগের আসর। ফলে বলতে গেলে এ বছরটা ফুটবল থেকে বাইরে থাকবে চীন।

আগামী ২৪ জুলাই জাপানের টোকিও শহরে পর্দা উঠবে ৩২তম অলিম্পিক আসরের। জাপান থেকে চীনের দূরত্ব ৩ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এত দূরত্বে দেশটি হলেও করোনার আতঙ্কে রয়েছে জাপান। আর অলিম্পিকের আসর হওয়ায় দেশটিতে আসবে হাজার হাজার অ্যাথলেট, সাংবাদিক ও বিদেশি দর্শক। চীন ও জাপান এশিয়ার দেশ হওয়ায় বিদেশি অ্যাথলেটরা রয়েছেন আতঙ্কে। আর এছাড়া অলিম্পিকে অংশ নেয়া নাও করতে পারে চাইনিজরা। আর করলেও চাইনিজদের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর অ্যাথলেটরা একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে আতঙ্কে থাকবেন তা নিশ্চিত। জাপানে এখনো করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি। তাই জাপান সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা যেন তাদের দেশটিতে না ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে চাইনিজ অ্যাথলেটদের অংশ নেয়াও অনেকটা হুমকিতে। এছাড়া আগামী মে মাসে চীনের সাংহাই শহরে হওয়ার কথা রয়েছে আর্চারি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড। কিন্তু করোনার কারণে এই বিশ্বকাপ আয়োজনও পড়েছে হুমকিতে। যদিও আর্চারি ফেডারেশন এখনো প্রতিযোগিতাটি বাতিল বা স্থগিত করেনি। তবে তারাও যে কোনো সময় চীনে আর্চারি বিশ্বকাপের আসর বাতিল বলে ঘোষণা দিতে পারে। যদিও আর্চারির বিশ্বনিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়ার্ল্ড আর্চারি জানিয়েছে তারা আরো বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করবে। পরিস্থিতি যদি ভালোর দিকে যায় তাহলে চীনেই বসবে আসর। আর নয়তো এটির স্থান পরিবর্তন করা হবে।

ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিযোগিতা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত সপ্তাহ গেছে শীতকালীন ছুটি। এই ছুটির ফাঁকে খেলোয়াড়দের মনকে চাঙ্গা করার জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যায় স্পেনে সময় কাটাতে। স্পেনে তাদের থাকার কথা ছিল মারবেলা নামক একটি হোটেলে। কিন্তু সেই হোটেলে চীনের একটি ফুটবল দল এক সপ্তাহ আগে অবস্থান করে। আর এই কারণে ম্যানইউ মারবেলা হোটেলে না উঠে অন্য আরেকটি হোটেলে যায়। যদিও ওই ফুটবলারদের মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত ছিল কিনা জানা যায়নি। কিন্তু তবুও ম্যানইউ কোনো প্রকার ঝুঁকি নেয়নি। এছাড়া চাইনিজ ক্লাব থেকে শীতকালীন দলবদলের সময় ম্যানইউ যোগ দেন ওদিয়ন ইগহালো। তাকে নিয়েও দলের অন্য খেলোয়াড়রা কিছুটা আতঙ্কে ছিল।

:: খেলা ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj