জনবল সংকটে ভোলা স্বাস্থ্য বিভাগ : ২০৬ পদের মধ্যে ৮৩টিই শূন্য

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এইচ এম নাহিদ, ভোলা থেকে : চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার ১টি সদর হাসপাতাল, একটি টিবি ক্লিনিক, ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ৬২টি ইউনিয়ন ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ভোগান্তিতে পড়ছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে জেলা সদর হাসপাতালের ওপর এখানকার মানুষ নির্ভরশীল থাকলেও সেখানে রয়েছে চিকিৎসকের ১০টি পদশূন্য। হাসপাতালগুলোতে গাইনি, কার্ডিওলজিস্ট, সার্জারি ও চক্ষুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জেলার সর্বমোট ২০৬টি ডাক্তারের পদের মধ্যে ৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন জেলার ১৮ লাখ মানুষ।

এদিকে জেলার মানুষকে উন্নত সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২৫০ শয্যার আধুনিক একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপিত হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। যে কারণে উন্নত চিকিৎসা সেবাও থেকেও বঞ্চিত ভোলার মানুষ।

অন্যদিকে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানকার মানুষকে ঢাকা ও বরিশাল গিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। যার ফলে একদিকে যেমন বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে অন্যদিকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হচ্ছে জেলার মানুষকে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে। এখানে ডাক্তারের ২২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে মাত্র ১১ জন। অন্যদিকে সদরের টিবি ক্লিনিকে নেই কোনো চিকিৎসক। ৫০ শয্যার বোরাহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে ডাক্তারের ২১টি পদ থাকলেও চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৯ জন।

দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি পদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৭ জন। এখানের শূন্য রয়েছে ১৪টি পদ। খায়েরহাট হাসপাতালে ৯টি পদের মধ্যে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৬ জন। ৫০ শয্যার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে ১১টি পদই শূন্য। এছাড়াও চরফ্যাশন ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২১ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ জন। এছাড়াও তজুমদ্দিনে ৪, মনপুরায় ৫ ও দক্ষিণ আইচা হাসপাতালের একটি পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটে ধুঁকছে জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোও। জেলার সাত উপজেলার ৬২টি ক্লিনিকের মধ্যে ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে ভেঙে পড়েছে জেলার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে আরো জানা গেছে, স¤প্রতি ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ভোলায় জেলায় ৬৯ জন চিকিৎসক পদায়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও চিকিৎসক সংকট কমছে না। চিকিৎসক সংকট লেগেই রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসেই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়ে থাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জনবল দেয়া হয়নি। তবুও আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে, সেটি চালু হলে স্বাস্থ্যসেবার এমন সমস্যা আর থাকবে না।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj