রকমারি : মামপ্স অর্থাৎ কর্ণগ্রন্থির প্রদাহ

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মামপ্স অর্থাৎ কর্ণগ্রন্থির প্রদাহপূর্ণ ছোঁয়াচে রোগ একটি তুচ্ছ শারীরিক অসুস্থতা যা ভাইরাস অর্থাৎ সংক্রামক রোগের বীজের আক্রমণে ঘটে থাকে। চিকিৎসা শাস্ত্রে এর নাম ইনফ্যাকসাস প্যারোটাইটিস। সংক্রমণের ফলে লালাগ্রন্থিতে ব্যথা হয় এবং এর স্ফীতি ঘটে। অনেক সময় এর মহামারির আকারে দেখা দেয় এবং অল্প বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রমণ করে। এর মূল লক্ষণগুলো হলো- মুখমণ্ডলীর স্ফীতি এবং বিকৃতি। এর ফলে কথা বলা বা চিবানো কষ্টকর ও ব্যথাদায়ক হয়। এই মামব্লিং বা কথা বলার অস্পষ্টতার জন্যই বোধ হয় রোগের নামকরণ হয়েছে মামপ্স।

লোকেরা যখন কথা বলে, কাশতে থাকে বা হাঁচি দেয় তখন তরল পদার্থের ক্ষুদ্র কণিকা ছড়িয়ে দেয়। সম্ভবত তার ফলেই মামপ্স সংক্রমিত হয়। ক্ষুদ্র তরল পদার্থের কণিকার মধ্যে যে সংক্রামক জীবাণু থাকে তা নিশ^াস গ্রহণ করার সময় লোকের মুখে ও নাকে নিবদ্ধ হয়। তারপর তা শরীরে ঢুকে এবং বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতঃপর শুধু লালাগ্রন্থিতে সীমাবদ্ধ না থেকে তা শরীরের সব অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রামকতার ১৮ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত অসুস্থতার লক্ষণ না দেখা যেতে পারে। একে বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ রোগ সংক্রমণ এবং রোগ লক্ষণ প্রকাশের অন্তর্বর্তীকাল। রোগের প্রারম্ভে রোগীর গায়ে প্রচণ্ড বেশি জ¦রের উত্তাপ দেখা যায়। রোগীর মাথাব্যথা, গলাব্যথা অথবা ঘাড়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। তার লালাগ্রন্থি নরম হয়ে যায় এবং ফুলে ওঠে। প্রায় চারদিন পর জ¦রের উত্তাপ কমতে থাকে এবং স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। এক সপ্তাহ বা দশদিন পর লালাগ্রন্থির স্ফীতি অদৃশ্য হয়ে যায়।

এই অসুখে শরীরের অন্যান্য অংশ কদাচিত রোগের আক্রমণের ফলে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরুষদের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ভ্রæণকোষ অসুস্থ হতে পারে। তাতে সাধারণত কোনো ক্ষতি হয় না। খুব অল্প ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের মেমব্রেইন অর্থাৎ ঝিল্লিতে জ¦ালা হয়। যদিও যন্ত্রণাদায়ক তবু শিশুদের ক্ষেত্রে ‘মামপ্স’ একটি মৃদু অসুস্থতা।

মামপ্সের জন্য কোনো বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। গামা গ্লোবুলিন ব্যবহারের ফলে কোনোরূপ জটিলতা দেখা যায় না। এর প্রতিষেধক টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে। তাতে এই রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj