বিমা কোম্পানির কমিশন রোধে আরো কড়াকড়ি

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরিটি (আইডিআরএ) বিমা কোম্পানিগুলোর অবৈধ কমিশন বন্ধে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বিমা খাতে কাক্সিক্ষত সুফল দেখা যাচ্ছে। বিমা খাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বিরাজ করছে, যা বিমা কোম্পানিগুলো মুনাফায় প্রতিফলন হচ্ছে। কিন্তু এরপরও কোম্পানিগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে তা থেকে অবৈধভাবে কমিশন দিচ্ছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগও রুখতে কর্মকর্তা-কর্মচারেিদর বেতন-ভাতা খাতেও ব্যয়ের সীমা বেঁধে দিয়েছে আইডিআরএ।

এখন থেকে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো বেতন-ভাতা বাবদ নিট প্রিমিয়ামের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করতে পারবে না। সম্প্রতি এমন নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইডিআরএ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী পহেলা মার্চ থেকে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা আহরণের জন্য সব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কমিশনের ভিত্তিতে বিমা এজেন্ট হিসেবে পদায়ন করতে হবে। এছাড়া বিমা আইন ২০১০-এর ৫৮ (১) ধারা অনুযায়ী সাধারণ বিমা কোম্পানির এজেন্ট ছাড়া অন্য কারো কমিশন বা অন্য কোনো নামে পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার যে আইন রয়েছে তা যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে গত বছর সাধারণ বিমা খাতে অবৈধ কমিশন বন্ধের লক্ষ্যে প্রিমিয়াম জমাকরণে ৩টির অতিরিক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আইডিআরএ।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মূলধন সংরক্ষণের জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আয় জমাকরণের জন্য অপর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে। এছাড়া দাবি পরিশোধের জন্য একটি ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে প্রিমিয়াম জমাকরণ হিসাব থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ওই হিসাব দুটিতে ট্রান্সফার করে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বিমা দাবি, কমিশন ও বেতন-ভাতাদির টাকা নগদে পরিশোধ করা যাবে না। এছাড়া শাখা কার্যালয়ের খরচ নির্বাহের ক্ষেত্রে প্রতিটি শাখায় একটি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রিমিয়াম হিসাব থেকে ক্রসড চেক বা ফান্ড ট্রান্সফার ছাড়া অন্য কোনো অর্থ ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা যাবে না। শাখা কার্যালয়ের অন্য যে কোনো আয়, কমিশন ফেরত ইত্যাদি ব্যাংক হিসাবে জমাকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আইডিআরএ বলছে, বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার প্রবণতা বাড়ছেই। ১০০ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে ৭০-৮০ শতাংশই কমিশন প্রদান করে কোনো কোনো কোম্পানি। তবে এর কোনো হিসাব নেই। এদিকে আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয় আইন মেনেই কমিশন দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে দেয়া এই কমিশনের হিসাব মেলাতে কোম্পানিগুলো তাদের সংগ্রহ করা প্রিমিয়াম প্রদর্শন করে না।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj