চাকরি হারাতে পারেন শত শত উন্নয়ন কর্মকর্তা

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী মার্চ থেকে চাকরি ছাড়তে হচ্ছে নন-লাইফ বিমা কোম্পানির শত শত উন্নয়ন কর্মকর্তাকে। দীর্ঘদিন থেকে পেয়ে আসা বাড়ি, গাড়ি ও মোটা অঙ্কের বেতন সবই ছাড়তে হবে এসব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) গত মঙ্গলবারের সার্কুলার অনুসারে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কমিশনের ভিত্তিতে বিমা এজেন্ট হিসেবে পদায়ন করতে হবে।

সূত্র মতে, দেশে ৪৯টি নন-লাইফ বিমা কোম্পানির ১ হাজার ৩৭০টি শাখা অফিস রয়েছে। এসব শাখা অফিসের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেডিডেন্ট পদবির কর্মকর্তারা উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। এসব কর্মকর্তাই মূলত ব্যবসা করে থাকেন। উন্নয়ন বিভাগের এ কর্মকর্তাদের প্রিমিয়াম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর তারা উচ্চ বেতন, দামি গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান। প্রিমিয়াম আয়ের ১৫ শতাংশ উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় করে কোম্পানিগুলো। সূত্র আরো জানায়, নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোতে নামে মাত্র এজেন্ট থাকলেও প্রকৃত অর্থে কোনো এজেন্ট নেই। কোম্পানির ব্যবসা করে থাকে উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তারাই। এসব কর্মকর্তাই বছরের পর বছর ধরে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় করছে। তারা উচ্চ বেতনসহ গাড়ি-বাড়ির সুবিধা পাচ্ছেন। উচ্চ পদের এসব কর্মকর্তা কোনোভাবেই এজেন্ট পদে পদায়ন হতে রাজি হবেন না। অন্যদিকে এজেন্টরা তাদের স্থান উচ্চ পদস্থদের ছেড়ে দেবেন না। তাদের মতে, এজেন্টরা ১৫ শতাংশ কমিশন পেয়ে থাকেন। তাদের বেতন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। উন্নয়ন কর্মকর্তাদের এজেন্টে পদায়ন করা নিয়ে ইতোমধ্যেই নন-লাইফ বিমা খাতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্কুলারটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। বেশ কিছু কোম্পানির উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তারা বাতিলের করণীয় বিষয়ে বৈঠক করেছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে একাধিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীরা বলেছেন, বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখছি। আমরা চাই কমিশন সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়। এই মার্কেট ও শিল্প যেন সঠিক-সরল পথে চলে, একটা আস্থার পথে চলে। কমিশন বাস্তবায়ন করতে গেলে এটা আমাদের মানতে হবে। আইডিআরএ এই সার্কুলারের ব্যত্যয় ঘটবে না। আর সার্কুলার মানতে গেলে সবাইকে ছাড় দিয়ে আসতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই। এখন উন্নয়ন কর্মকর্তাদের কেউ যদি এটা মানতে না চায়, সে চাকরি করবে না- এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মার্কেট ঠিক রাখতে এর বিকল্প নেই। তবে অনেকে বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে যদি কারো মতামত থাকেও এটা করার সুযোগ নেই। বিমা আইনের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করা কোনো কোম্পানির কোনো সিইওর পক্ষে সম্ভব না, করা উচিত নয় এবং বেআইনি। বিমা খাতের সার্বিক মঙ্গল ও শৃঙ্খলার জন্যই সার্কুলারটি জারি করেছে আইডিআরএ। সম্মিলিতভাবে এটা বাস্তবায়নের জন্য আইডিআরএর সঙ্গে আমাদের এসোসিয়েশন ও ফোরামের বসতে হবে। এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে। এটাতে যদি আমরা কঠোর থাকতে পারি তাহলে শৃঙ্খলাটা আরো শক্ত হবে।

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যারা ডিএমডি, এডিশনাল এমডি হিসেবে মার্কেটিংয়ে আছেন তাদের সামাজিক, পারিবারিক একটা মর্যাদার বিষয় আছে। এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের কাছে প্রশ্ন আসছে, হাতাশা কাজ করছে উন্নয়ন কর্মকর্তাদের মাঝে- এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত। আমাদের দেশে তো উন্নত দেশের মতো এজেন্ট সিস্টেমটা গড়ে ওঠেনি, সেটা হলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে আমাদেরও একসময় এই জায়গায় যেতে হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj