ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলে ৯ দাবি : দ্রুততম সময়ে দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি শিল্পমন্ত্রীর

শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের উচ্চমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কোনো নীতিপদক্ষেপ না থাকায় ভোক্তা স্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে রয়েছে। ট্রান্স ফ্যাট মানুষের হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে করণীয় তুলে ধরতে এবং ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নয় দফা ভোক্তা দাবিনামা তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট, হৃদরোগ ঝুঁকি এবং করণীয় : ভোক্তা পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবিনামা উত্থাপন করা হয়। সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। বক্তব্য রাখেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান, বিএসটিআইর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (এনসিডিসি) ডা. হাবিবুর রহমান, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের ইপিডেমিওলজি এন্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, প্রজ্ঞা’র পরিচালক ও কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার এবং ক্যাবের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আহম্মদ একরামুল্লাহ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ দফা ভোক্তা দাবিনামা বাস্তবায়ন করা হবে। ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে পুরাতন আইন সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হবে।

ভোক্তা দাবিনামাগুলো হলো; সব খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুসরণীয় মাত্রা অনুযায়ী মোট ফ্যাট বা তেলের সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণ করা, ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস ডালডা/বনস্পতির উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, খাদ্যপণ্যের মোড়কে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করতে ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭’ সংশোধন করা, ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত (২%) খাদ্যপণ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট লোগো প্রণয়ন এবং এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, খাদ্যপণ্যের মোড়কে ট্রান্স ফ্যাট সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকর/মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারিত করার সুযোগ বন্ধ করা, খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা পরিমাপের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি/ যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা, খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিতভাবে মান যাচাই/পরীক্ষা করা এবং প্রাপ্ত ফলাফল ভোক্তাসাধারণের অবগতির জন্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা, ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালু রাখা, ট্রান্স ফ্যাটের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাসাধারণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj