শতরঞ্জিতে নারীর ভাগ্য বদল : সারথী ভৌমিক

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এক সময় বিত্তবানদের অভিজাত্যের অন্যতম প্রতীক ছিল শতরঞ্জি। এখন মধ্যবিত্তদের ঘরেও শোভা পায় এই শতরঞ্জি। দেশে-বিদেশে দিন দিন বেড়েছে এর কদর। শত রঙের এই শতরঞ্জি বদলে দিয়েছে রংপুরের অনেক নারীর ভাগ্য। অভাবের সংসারে এনেছে সচ্ছলতা।

রংপুরের নিসবেতগঞ্জের ৫টি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করছে দেড় শতাধিক নারী শ্রমিক। শতরঞ্জি বুনে নার্গিস, রাজিয়া, খোরশেদা আম্বিয়া, ফাতেমা, রঞ্জিনা, ঝুমা, আরজিনাসহ এলাকার আরো অনেক নারী সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫/৬টা পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে যান তারা। ১৫ বছর ধরে শতরঞ্জি বুননের কাজ করছেন নার্গিস। আগে নিজ বাড়িতেই এই কাজ করতেন, গত ৪/৫ বছর ধরে কারখানায় চাকরি করছেন। নার্গিস জানান, শতরঞ্জি বুনে তার সন্তানদের লেখাপড়া আর সংসার খরচে অনেকটাই সহায়তা করতে পারছে তিনি।

আরজিনা শতরঞ্জি বুননের কাজে আছে ৭ বছর ধরে। রিকশাচালক স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু এখন অবস্থা বদলেছে। সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।

শ্রমিকরা জানান, বাড়িতে কাজ করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। টানা তৈরি করা, সুতা লাগানোসহ আরো নানান জিনিসের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হতো। এরপর শতরঞ্জি বুনে তা কারখানায় জমা দিতে হতো। মালিক পক্ষ সেই শতরঞ্জি বুঝে নিয়ে প্রতি বর্গফুট ১০ টাকা দরে দাম দিত। এতে দিনে ১০ থেকে ১২ ফুটের একটি শতরঞ্জি বুনে আয় হতো ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর এখন কারখানায় কাজ করে মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কোনো প্রকার যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই কাঠের ফ্রেম আর রশি দিয়ে সুতা গণনা করে হাত দিয়ে বাহারি নকশা করে তৈরি হয় শতরঞ্জি। ঐতিহ্যবাহী এই শতরঞ্জির মাধ্যমে উত্তরের জেলা রংপুরকে আলাদাভাবে চিনিয়েছে দেশ-বিদেশে।

নিসবেতগঞ্জের এক শতরঞ্জি কারখানার মালিক মানিক মিয়া বলেন, দিনে একেকজন শ্রমিক ১০ থেকে ১৫ ফুট শতরঞ্জি বুনতে পারেন। সারা বছরই এর চাহিদা ব্যাপক। তবে বিদেশ থেকে অর্ডার আসলে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে এখান থেকে শতরঞ্জি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া আমাদের তৈরি বাহারি রঙের শতরঞ্জি দেশের বড় বড় শপিংমলসহ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj