বয়সের ‘গণ্ডি’ পেরিয়ে বন্ধুত্ব

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

গতকাল দেশের ১২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ফাখরুল আরেফিন খান পরিচালিত ‘গণ্ডি’ সিনেমা। এখানে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের সুবর্ণা মুস্তাফা। সম্প্রতি মেলার সঙ্গে কথা হয় এই দুই অভিনেতার। কথা বলেছেন শাকিল মাহমুদ

বাংলাদেশের সিনেমায় এই প্রথম অভিনয় করলেন। প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন…

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আমার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। টিমের সকলেই বন্ধুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমার সহ-শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা আমাকে ভীষণ হেল্প করেছেন। অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাজেশনও দিয়েছেন। পরিচালকও যতœ নিয়ে সিনেমার সমস্ত কাজ প্রস্তুত করেছেন। যার ফলে নতুন একটি জায়গায়, নতুন একটি টিমে নতুন অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ভীষণ রকম ভালো।

‘গণ্ডি’ সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাই…

সব্যসাচী চক্রবর্তী : পরিচালক নিজে আমার সঙ্গে দেখা করে বলেন, এ ধরনের একটি গল্প আছে। আপনাকে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। গল্পটি শুনে আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কী রকম হবে আর চরিত্রটিতে আমি কতটা মানাসই! কারণ এটা কোন সরলরৈখিক গল্প নয়। গল্পে আমার যেমন ইন্টার‌্যাকশন হচ্ছে আমার নাতনি, ছেলে এবং ছেলের বউয়ের সঙ্গে তেমন ইন্টার‌্যাকশন হচ্ছে বাইরের একজন মানুষের সঙ্গে। আমার চরিত্রের কোনো গণ্ডি নেই। গল্পটি শুনে পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু আমি কী পারব? এমন একটি প্রশ্ন জন্মে ছিল। পরবর্তীতে পরিচালকের আমার প্রতি কনফিডেন্স দেখে শেষমেশ রাজি হয়ে যাওয়া।

সুবর্ণা মুস্তাফা : সিনেমার গল্পটি শোনার আগে আমি নির্মাতাকে চিনতাম না। গল্পটি যখন শুনলাম ভীষণ ভালো লাগল। তাই অভিনয়ের জন্য রাজি হলাম। সিনেমাটি মানুষের মনের মধ্যে একটা অন্যরকম পরিবর্তন আনবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। এটি সবার খুব ভালো লাগবে। একটা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের কথা বলা হয়েছে তবু সব বয়সের দর্শকের সিনেমা ‘গণ্ডি’।

সিনেমাটি নিয়ে কতটা আশাবাদী?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আমার তেমন বাংলাদেশের সিনেমা দেখা হয় না। সুতরাং আমার চেয়ে আপনারা ঠিক ভালো বলতে পারবেন সিনেমাটি কেমন! তবে গণ্ডির গল্প আমাকে বেশ আকৃষ্ট করেছে। যার ফলে একটু রুক্ষ, পুলিশি গোছের চরিত্র থেকে বেরিয়ে এমন একটি নরম চরিত্রে অভিনয় করেছি। অসাধারণ একটি গল্প বলেছে গণ্ডি। বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলা একটি সিনেমা এটি। সিনেমাটি সব বয়সের দর্শককে কাছে টানবে। বিশেষ করে আমাদের মতো বুড়ো হয়ে যাওয়া মানুষদের ভীষণ ভালো লাগবে বলেই আমি মনে করি।

সুবর্ণা মুস্তাফা : ‘গণ্ডি’র গল্প আমাদের সিনেমার গতানুগতিক গণ্ডির বাইরের একটি সিনেমা। একজোড়া বয়স্ক মানুষের কথা বলেছে সিনেমাটি। যে মানুষ দুজন কোনো সীমারেখা নিয়ে জীবন যাপন করতে চায় না, জীবনে কোনো গণ্ডিতে আবদ্ধ হতে চায় না। সে অর্থে একটি অন্য রকম সিনেমা এটি। সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো একজন অভিনেতা যেখানে অভিনয় করেছেন, যেখানে তার এত এত ভক্ত দর্শক রয়েছে সেখানে তার অভিনীত ও একটি বয়স পেরনো মানুষের কথা বলা গণ্ডি দর্শক ভালোবেসে গ্রহণ করছে এবং করবে।

বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে কতটা ভালোবাসে তার কোনো প্রতিফলন পেয়েছেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আসলে সত্যি বলতে আমার দেশের মানুষের চেয়েও এদেশের বিপুল মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এর আগেও আমি বাংলাদেশে এসেছি। কিন্তু সিনেমার কাজের সুবাদে এই প্রথম। এবার এসে জানলাম এখানে আমি কতটা জনপ্রিয়। এটা হয়তো আজীবন এটা অনাবিষ্কৃতই থেকে যেত। ‘গণ্ডি’ আমাকে বাংলাদেশের মানুষের খুব কাছে এনে দিয়েছে। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া হয়ে থাকবে! এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয় নির্মাতার কাছে। তার কারণেই এই ভালোবাসায় সিক্ত হতে পেরেছি।

‘গণ্ডি’র পর বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয়ের পরিকল্পনা আছে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই এখনো। আর কারো সঙ্গে এ নিয়ে কথাও হয়নি। তবে সবকিছু মিলে গেলে কাজ করা হবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj