করোনা- প্রতিরোধেই মুক্তি : অধ্যাপক ডা. লিয়াকত হোসেন তপন

শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক জরুরি অবস্থার সতর্কতা জারির পর করোনা ভাইরাস, বিশেষত ঘড়াবষ পড়ৎড়হধ ারৎঁং (২০১৯-হঈড়ঠ) নিয়ে ব্যাপক সাবধানতা ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত চীনে শতাধিক রোগী মৃত্যুবরণ করেছে।

মানবদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে :

অনাদিকাল থেকে মানুষ ভাইরাস সৃষ্ট অসুখে প্রায় অসহায়। ভাইরাল হেপাটাইটিস, এইডস, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের করোনা পর্যন্ত প্রাই সব ক্ষেত্রেই মানুষ চিকিৎসার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। শুধু প্রতিরোধ (চৎবাবহঃরড়হ) ও উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই আমাদের অস্ত্র। ভাইরাস হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র (২০ থেকে ৩০ ন্যানোমিটার ব্যাসার্ধ) অণুজীব যা শুধু জঘঅ অথবা উঘঅ নামক নিউক্লিক এসিড বহন করে। করোনা ভাইরাসে জঘঅ থাকে। ভাইরাস প্রকৃতিতে অনেককাল থাকতে পারলেও তার বংশবৃদ্ধি শুধু জীবন্ত কোষেই হতে পারে। আবার খুবই দ্রুত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনে সক্ষমতার জন্য ভাইরাসরোধী ওষুধ আবিষ্কারও কষ্টসাধ্য। এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন এখনো প্রস্তুত হয়নি। শিগগিরই হবে ইনশাআল্লাহ।

করোনা ভাইরাস প্রকৃতিতে ব্যাপকভাবে বিচরণ করে, সাধারণ নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে ঝঅজঝ (ঝবাবৎব অপঁঃব জবংঢ়রৎধঃড়ৎু ঝুহফৎড়স), গঅজঝ বা সাম্প্রতিককালের মহামারি সবই করোনা থেকে হতে পারে। বাদুর থেকে সাপ, তারপর সাপ থেকে মানুষ এভাবে মানুষ থেকে অন্য মানুষে এই ধ্বংসকণা ছড়িয়ে পড়ছে। চীনের উহান শহর থেকে সারা বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই মৃত্যুদূত।

উপসর্গ-

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এই তিনটি প্রধান লক্ষণ। নাক দিয়ে পানি পড়া বা মাথাব্যথাও হতে পারে। রোগের সংক্রামক থেকে উপসর্গ (ওহপঁনধঃরড়হ ঢ়বৎরড়ফ) প্রকাশ পেতে ২-১৪ দিন সময় লাগতে পারে।

প্রতিরোধ-

করোনা সৃষ্ট রোগ থেকে মুক্তির শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে ভাইরাস প্রতিরোধ। প্রতিরোধের জন্য করণীয় :

:: পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা।

:: খাবার পূর্বে, খাদ্য প্রস্তুতের আগে/পরে, কোনো কাজের পরে, বাইরে থেকে এসে, প্রাণী ঐধহফষব এর পর ভালোভাবে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া।

:: ঘ৯৫ বা সার্জিকেল বা ৩স মাস্ক ব্যবহার করা।

:: হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা।

:: হ্যান্ড শেক না করা।

:: হাঁচি-কাশিরত মানুষের ২ ফুট দূরে থাকা।

:: প্রাণীদের নাড়াচাড়ার সময় হ্যান্ড গøাভ্স ব্যবহার করা।

:: মাংস, ডিম ও মাছ পূর্ণভাবে রান্না করা।

:: ঘনঘন অল্প অল্প পানি পান করা।

:: নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা।

শেষ কথা :

নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও হতাশ হয়ে বসে থাকা যাবে না। করোনা থেকে দূরে থাকা ও প্রতিরোধের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হাঁচি, কাশি, জ্বর বা মাথাব্যথা হলে দেরি না করে চিকিৎসককে দেখাতে হবে বা হাসপাতালে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে চৎবাবহঃরড়হ রং ঃযব নবংঃ ঃৎবধঃসবহঃ.

অধ্যক্ষ

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জ

মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লি.

উত্তরা শাখা, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj