ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি হলো যেভাবে

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিকে অনুমোদন দেয়া। অন্য বেশিরভাগ দেশ মনে করে এসব বসতি অবৈধ। জাতিসংঘে বেশিরভাগ দেশ বলছে, এসব বসতি হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। এমনকি সরকারিভাবে যুক্তরাষ্ট্রও এর সঙ্গে একমত। কিন্তু গত নভেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন ইসরায়েলি বসতিকে তিনি আর আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করেন না। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। কিন্তু অবৈধ হোক আর না হোক, বসতি আছে ও বাড়ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় সেখানকার চিত্র কেমন ছিল।

ইসরায়েলের অংশ নীল ও পশ্চিম তীর হলুদ। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ মনে করে। কিন্তু ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই সেখানে বসতি বাড়াচ্ছে। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বহু বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। গত ২০ বছরে তাদের জনসংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে ইসরায়েল। তাদের সুরক্ষা দেয় ইসরায়েলি সেনারা।

স্যাটেলাইট থেকে নেয়া চিত্রে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে বসতিগুলো বেড়েছে। ২০০৪ সালে গিভাট জাইভ বসতিতে ১০ হাজারের মতো মানুষ ছিল, আর এখন আছে ১৭ হাজার। এখন পশ্চিম দিকে আরো বাড়ছে। বাড়ছে নতুন বাড়ি, উপাসনালয় ও শপিং সেন্টার। বসতিগুলো নানা আকারের। কিছু আছে যেখানে কয়েকশ মানুষ বাস করে। সবচেয়ে বড়গুলোর একটিতে ৭৩ হাজার ৮০ জন বাস করে। গত ১৫ বছরে তাদের সংখ্যা তিনগুণ হয়েছে। ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৪ বছর আর কোনো বসতি হওয়া উচিত নয়। তবে নতুন স্থাপনা না হলেও সেটেলারদের সংখ্যা বাড়বেই উচ্চ জন্ম হারের কারণে। গড়ে ইসরায়েলি নারীদের এখন ৭টির বেশি সন্তান। এমনিতেই ইসরায়েলে জন্ম হার ৩.১। আর দখলকৃত এলাকার বসতিগুলোতে সেটি আরো বেশি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জন্ম হার কম। এর প্রভাব পড়বে মোট জনসংখ্যাতেও। যেখানে বসতি করা হচ্ছে সেটিকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ মনে করে। তারা মনে করে বসতিগুলো সরাতে হবে তাদের রাষ্ট্রের জন্য। কিছু লোক এসব বসতিতে গেছেন অধিকতর সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায়। কারণ সেখানে ঘরবাড়ি বানানোর খরচ খুব কম। নানা সুবিধার কারণে সেখানকার জীবনমান উন্নত। আর কিছু মানুষ গেছেন কঠোর ধর্ম বিশ^াসের কারণে। তারা মনে করেন ঈশ^র এ জায়গা তাদের জন্য দিয়েছে। তবে এক-তৃতীয়াংশই সেখানকার অতিমাত্রায় রক্ষণশীল। তাদের সংসার বড় ও কিছুটা দরিদ্র। আর কিছু আছেন যারা মনে করেন ইহুদিদের প্রাচীন ভূমি হওয়ার কারণে সেখানে তাদেরই বাস করার অধিকার রয়েছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj