ব্রেক্সিট কার্যকর : কী পরিবর্তন আসবে যুক্তরাজ্যে

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৫টায় (স্থানীয় সময় ৩১ জানুয়ারি, শুক্রবার রাত ১১টায়) প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বের হয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। প্রায় ৩ হাজার কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যয়ে কার্যকর হয়েছে বহুল আলোচিত এই ব্রেক্সিট চুক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে দেশটিতে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে ব্রিটিশদের জীবনযাত্রায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারাবেন যুক্তরাজ্যের এমপিরা : নাইজেল ফারাজ এবং অ্যান উইড্ডেকমবের মতো পরিচিত মুখগুলোসহ যুক্তরাজ্য থেকে ৭৩ জন সদস্য ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে। ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার ফলে তারা তাদের সদস্যপদ হারাবেন। কারণ যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইইউর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোও ছেড়ে যাচ্ছে। তবে যেহেতু যুক্তরাজ্য অন্তর্বর্তী সময়ে ইইউর আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতো সেহেতু ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস আইনি সমস্যাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবে।

ইইউ সামিটে আর নয় : ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল সামিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অংশ নিতে চাইলে তার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ প্রয়োজন হবে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরাও এখন থেকে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে পারবেন না।

বাণিজ্য : যুক্তরাজ্য তাদের পণ্য ও সেবা বিক্রি বা এসব কেনার জন্য নতুন নিয়ম ঠিক করতে বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকার সময়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা করতে পারতো না। তাই ব্রেক্সিট সমর্থকরা বলছেন, নিজের বাণিজ্য নীতি ঠিক করার স্বাধীনতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

রং পরিবর্তন হবে পাসপোর্টের : ৩০ বছর পর দেশটিতে আবার ফিরে আসবে নীল রংয়ের পাসপোর্ট। ২০১৭ সালে এ পরিবর্তনের কথা ঘোষণা দিয়ে তখন অভিবাসনমন্ত্রী ব্রান্ডন লুইস দেশটির ঐতিহ্যবাহী নীল ও সোনালি ডিজাইনের পাসপোর্ট আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এ পাসপোর্ট প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিল ১৯২১ সালে। তবে বর্তমান যে পাসপোর্ট আছে সেটিও বৈধ থাকবে।

কাউকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ করতে পারবে না ইইউ : সন্দেহভাজন অপরাধী যদি কেউ যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে গিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নেয় তাহলে তাকে ফেরত পাবে না যুক্তরাজ্য। কারণ সংবিধান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের নাগরিককে প্রত্যর্পণের সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইউরোপিয়ান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রয়োগ অন্তর্বর্তী সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj