বরিশাল আওয়ামী লীগ চলছে কাগজ-কলমে : তৃণমূলে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ

শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

এম মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে : বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটি এখনো বহাল। তিন বছর মেয়াদি এ কমিটি ৭ বছর অতিক্রম করেছে। ৫ জনের মধ্যে একজন মারা যাওয়ায় ৪ জন দিয়ে কাগজ-কলমে চলছে কমিটির কার্যক্রম। অথচ বিভাগীয় সদর হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে বরিশাল সদর উপজেলার গুরুত্ব অনেক। একই অবস্থা জেলার আরো তিন উপজেলা যথাক্রমে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বানারীপাড়ায়, যা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সম্মেলন পরবর্তী কমিটিতে পদ-পদবি বণ্টন এবং কমিটি কুক্ষিগত করার অভিযোগসহ নানা বিষয় নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও করা যাচ্ছে না। গত ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা সম্মেলন করার উদ্যেগ নেয়া হয়েছিল। আগামী মার্চের মধ্যে জেলা সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বরিশাল-৫ (সদর-সিটি এলাকা) সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রাণ হচ্ছে সদর উপজেলা। এ কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে তার প্রভাব পড়ে গোটা জেলার ওপর। সদরের যে বর্তমান কমিটি রয়েছে তার কোনো তালিকাও নেই কেন্দ্রে। তাই এ কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি গঠন করলেও সেগুলোও বৈধ হবে না। কেন্দ্র থেকে আগামী মার্চের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার আগে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। নতুন কমিটিতে যাতে যোগ্য নেতৃত্বে আসে সে বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন বর্তমান সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি ও সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল। কমিটির অপর তিন নেতার মধ্যে জামাল গাজী মারা গেছেন এবং রেহানা বেগম মহিলা আওয়ামী লীগ ও মাহাতাব হোসেন সুুরুজ জেলা আওয়ামী লীগের পদ নিয়ে রাজনীতি করছেন।

চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরর সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ৭ বছর ধরে কেবল সভাপতি ও সম্পাদকই আছেন উপজেলা কমিটিতে। তারা পদ ধরে রাখতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠন করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোনো মতামত নেয়া হচ্ছে না। শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুন তালুকদার বলেন, সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেই বললেই চলে। বর্তমান কমিটি পুনরায় পদ ধরে রাখতে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে পকেট কমিটি শুরু করেছেন।

উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার কথা স্বীকার করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বললেন, সমন্বয়হীনতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। এখন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সিল করার চেষ্টা করছি। এরপর উপজেলা কাউন্সিল হবে। সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল বললেন, কাজে ব্যস্ত থাকায় সময় হয়নি। তাই কমিটি করা যায়নি।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, গত নভেম্বরে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি না করেই উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিল একটি পক্ষ। এ নিয়ে বিরোধে তখন সম্মেলন স্থগিত হয়। নতুন করে কমিটি গঠনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পরিবর্তন চান।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন বলেন, গত নভেম্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়ে। অঙ্গ সংগঠনের নেতা স্বপদ ত্যাগ না করেই মূল দলে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এ কারণে জেলা কমিটির নির্দেশে তখন সম্মেলন স্থগিত হয়। আপাতত এ উপজেলাতে সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ নেই বলে কামাল খান জানান।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক এডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন তারা কেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য লোকের হাতে দলের নেতৃত্ব দেয়া হবে। সদর উপজেলা কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা কমিটি কেন্দ্র নয় জেলা অনুমোদন দেয়, তাই এর বৈধতা রয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj