নোয়াখালীতে ধান ক্রয়ে কৃষক তালিকায় অনিয়ম

শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী : জেলার সদর ও সুবর্ণচর উপজেলায় সরকারি ধান সরবরাহকারী কৃষকের চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে জেলার সুবর্ণচরে ধান ক্রয়ের তালিকায় ২ মৃত ব্যক্তির নাম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সুবর্ণচরের আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন নার্গিস আক্তার। প্রায় এক বছর আগে মারা গেছেন তিনি। অথচ চলতি আমন মৌসুমে সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকায় বিক্রেতা হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে। বেশ কিছুদিন আগে মারা যাওয়া মো. ইব্রাহিমের কাছ থেকে ধান কেনার পরিকল্পনা করেছে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়। ইউপি সদস্য আবুল বাশার এদের দুজনেরই মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শুধু মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়, জেলার সুবর্ণচর ও সদর উপজেলায় আমন ধান সংগ্রহের তালিকা নিয়ে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির, এমনকি কৃষক নন এমন ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের গোফরান উদ্দিন নামে এক কৃষক স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর করা এক আবেদনে এসব অভিযোগ করেন। আবেদনে তিনি বলেন, আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমন ধান সংগ্রহের তালিকায় মৃত ব্যক্তি, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ও কৃষক নয় এমন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে তালিকায় এ ধরনের ৫৩ ব্যক্তির নাম রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগের যোগসাজশে এ ভুয়া কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম না থাকায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী কৃষক।

সুবর্ণচর উপজেলায় এবার প্রায় ২ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টন ধান সংগ্রহ করবে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে গুদাম কর্তৃপক্ষ ২৪৯ টন ধান সংগ্রহ করেছে।

এদিকে সদর উপজেলায় এবার প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে ১ হাজার ৪৮৮ টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান সরবরাহকারী কৃষকের চূড়ান্ত তালিকার প্রায় ১ হাজার ৪৮৮ জন কৃষকের এক টন করে ধান সরবরাহের কথা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া চূড়ান্ত তালিকায় কৃষক নন, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ তালিকা বাতিল করে তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ধান ক্রয়ের দাবি জানান কৃষকরা। সদর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩৭ টন ধান সংগ্রহ করে সোনাপুর খাদ্যগুদাম।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যে তালিকা দেয়া হয়, সে তালিকা থেকে উপজেলা প্রশাসন লটারি করে চূড়ান্ত একটি তালিকা প্রণয়ন করে থাকে। পরে ওই তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় খাদ্য অধিদপ্তর অফিসের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগকৃত তালিকার দায়-দায়িত্ব স্থানীয় কৃষি অফিসকেই নিতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম সরদার ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম ইবনুল হাসান ইভেন। তারা বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে সোনাপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সহিদ উল্যা ও চরবাটা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন জানান, তারা উপজেলা প্রশাসন থেকে যে তালিকা পেয়েছেন, সে হিসেবে ধান সংগ্রহ করবেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে অভিযোগকৃত এলাকার ধান সংগ্রহ আপাতত বন্ধ রাখা হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে উল্লেখ করে জানান, এ তালিকা প্রস্তুতের জন্য খুবই অল্প সময় দেয়া হয়েছে। বাড়তি কাজের জন্য দেয়া হয়নি কোনো বরাদ্দ। তার ওপর কার্যালয়ে জনবল সংকট চরমে। সব মিলিয়ে খুব স্বল্প সময়ে এ তালিকা করতে গিয়ে হয়তো কিছুটা ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দিয়ে নিজেদের দক্ষতা আরো বাড়ানো হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj