বরিশালে সরিষার ভালো ফলনের আশা : মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ, কৃষকের মুখে হাসি

শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

এম মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে : ভোরের আলোকরশ্মি মসুর, ভুট্টা, তিল তিষির পাতায় জমে থাকা শিশির কণার ওপর পড়ে যেমন অপরূপ শোভার সৃষ্টি করে, তেমনি গোধূলীলগ্নে সরিষা ক্ষেত যেন প্রকৃতিকে করে তোলে অপরূপ। হলুদে হলুদে সেজেছে বরিশালের বিস্তৃত ফসলের মাঠ। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আরো কিছুদিন আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে কৃষকরা ক্ষেতের সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের ফসলের ক্ষেত উত্তরের হিমেল হাওয়ায় মাঝেমধ্যেই দোল খাচ্ছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে প্রতিটি সরিষার ক্ষেত। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করে সরিষা ফুলের সঙ্গে স্মৃতিবন্দি হয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেতেই সরিষার বীজ আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এ বছর সরিষা চাষে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ফলে কম খরচে অধিক লাভের আশায় কৃষকের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। সরেজমিন বিভিন্ন উপজেলায় দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় কৃষকরা সরিষার পাশাপাশি রকমারি রবি ফসল চাষ করেছেন। বিশেষ করে খণ্ড খণ্ড জমিতে সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য মাঠে-প্রান্তরে শোভা পাচ্ছে। চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষের শুরু থেকে ঘরে ওঠানো পর্যন্ত আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। মোটামুটি ভালো ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদে ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। তবে বাজার ভালো থাকলে সরিষায় আরো বেশি লাভবান হওয়া যায়। জেলার কৃষকবন্ধু অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার গম চাষের বদলে চাষিরা অন্যান্য রবি ফসল আবাদ বেশি করছেন। গত বছর এসব ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষিরা রবি শষ্যের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় মসুরি, তিল, সরিষার যে পরিমাণ আবাদ হয়েছে তা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এর মধ্যে মসুর ও সরিষার আবাদ বেড়েছে বেশি।

গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন হাওলাদার জানান, এ বছর তিনি ৬২ শতক জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। গত বছর নিজস্ব পদ্ধতিতে চাষ করলেও এবার কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বারি-১৫ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। যার অধিকাংশ ক্ষেতেই সরিষার বীজ আসতে শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, মৌসুমে প্রতি মণ সরিষার দাম ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি করা যায়, যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভ। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় তার মতো অনেক কৃষক সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রহমান জানান, গত বছর উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। এ বছর ৩৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষা চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ বছর সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হরিদাস শিকারী জানান, চলতি মৌসুমে বরিশাল জেলায় ৬ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব থাকায় ৩ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। এর মধ্যে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, উজিরপুর ও গৌরনদী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj