করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবার মতো কিছু হয়নি এখনো। আক্রান্ত সন্দেহে যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল তারা করোনা ভাইরাসে নয় ইনফ্লুয়েঞ্জাতে ভুগছে। তাই এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা শূন্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) আয়োজিত ২০১৯ এন কভ ভাইরাস আউটব্রেক সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর সিডিসি অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ। এটি প্রতিরোধে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে যোগাযোগ করলেও মাত্র দুজন রোগীর নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছিল। তবে ওই দুজনেরও পরীক্ষার ফলাফলও নেগেটিভ এসেছে। তারা করোনা নয় ইনফ্লুয়েঞ্জা বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এ ছাড়া গত কয়েকদিনে চীন থেকে আসা বিভিন্ন ফ্লাইটের ৯০০ যাত্রীকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা হলেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি এখনো।

অধ্যাপক তহমিনা বলেন, চীনের উহান শহরে এ ভাইরাসটি প্রথম লক্ষ্য করা হয়। নির্দিষ্টভাবে বলা না গেলেও একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার থেকে ভাইরাসটি শহরটির অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ইনফ্লুয়েঞ্জা-সদৃশ এ নতুন ভাইরাসটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ২০১৯- এন কভ বা করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসের লক্ষণগুলো হচ্ছে জ¦র, শ^াসকষ্ট, শ^াসকষ্টের সঙ্গে কাশি, নিউমোনিয়া ও কিডনি ফেইলর। আর এ ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে দ্রুত ছড়ায়। তাই এ ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আমরা আক্রান্তকে কোয়ারেন্টাইন (ব্যক্তি পৃথকীকরণ) করতে বলি। এ অবস্থায় ২-১৪ দিন রোগীকে অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে দেশে কারো আক্রান্ত হওয়া খবর পাওয়া না গেলেও অতীতের মার্স করোনা ও সার্স করোনা ভাইরাসের কর্মকাণ্ড থেকে বলা যায় এ ভাইরাসে সামনের দিনগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ চীনের অসংখ্য লোক দেশে উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তাই চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে ব্লু কার্ড। যেখানে ইনস্টিটিউট অফ এপিডোমলিজি, ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) হট নাম্বার রয়েছে। বাইরে থেকে আগত যাত্রীরা গলা ব্যথা, কাশি ও শ^াসকষ্ট দেখা দিলেই হট নাম্বার-০১৯৩৭ ১১০ ০১১, ০১৯৩৭ ০০০ ০১১, ০১৯২৭ ৭১১ ৭৮৪ ও ০১৯২৭ ৭১১ ৭৮৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আইইডিসিআর-এর পরিচালক মিরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত থাকায় নোবেল করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি আরো বলেন, দেশে কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদের আলাদা করে রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি কুর্মিটোলা হাসপাতালেও পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রি-এজেন্টও আছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি টিমের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। আগামী রবিবার আরেকটি টিমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রসঙ্গত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj