৩ জেলার পরিবেশনা দিয়ে শেষ হলো সাংস্কৃতিক উৎসব

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বহুমুখী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ দিনব্যাপী দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছে। দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই শিল্পযজ্ঞের আয়োজন করা হয়। ঐহিত্যবাহী লোকজ খেলা, লোকনাট্য ও সারাদেশের শিল্পীদের বিভিন্ন নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে সাজানো হয়েছে এই উৎসবের অনুষ্ঠানমালা। উৎসবে প্রতিদিন ৩টি জেলা, ৩টি উপজেলা, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ও সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। এ ছাড়াও একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে একটি লোকনাট্য পরিবেশিত হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় নন্দনমঞ্চের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব মো. বদরুল আনম ভূঁইয়া। আলোচনা শেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এরপরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় কোলাজ গান পরিবেশন করে শিল্পী সাফান, সুপ্ত, শুশমী, অমিত, সাফিন ও লিতি। বরগুনা জেলার পরিবেশনায় জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বাবুল কৃষ্ণ সাহার পরিচালনায় ‘সাগর পাড়ের মানুষ মোরা, বিশ্ববাসী চিনলো তোমায়’ সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী প্রতাপ, সুজন, রক্তিম, আকাশ, প্রবাস, ঝুমা, নিশাত, হিরা, দিপান্বিতা, আশালতা ও সানিয়া। মেহেদী হাসান বেলালের নৃত্য পরিচালনায় ‘মোগো মেজাজ বোলে গরম এবং দেশে দস্যু এলো মেলা’ সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী মেহেদী, নিশাদ, শাহরিয়া, নাঈম, রিফাত, অন্ত, দীপ্তি, তাহরিমা, ফারজানা ও জিসমি।

মুন্সীগঞ্জ জেলার পরিবেশনার শুরুতে জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘শোক একটি মুজিবরের থেকে ও বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ সমবেত সঙ্গীত এবং ‘দে তালি বাঙালি ও কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানের কথায় দুটি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পীরা, ‘গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পথ’ যন্ত্রে সুর তোলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীরা। খাগড়াছড়ি জেলার পরিবেশনার শুরুতে জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, শৈল থেকে সমতটে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত দেশাত্মবোধক গান এবং ‘একটি মুজিবরের থেকে’ দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী মো. ফারুক, মো. জুয়েল. উত্তম রায়, নিয়ং মারমা, সুমি আক্তার, অনুশ্রী চাকমা, উলিপ্রু মারমা, উক্রাসং মগ, পাখী ত্রিপুরা, তৃষিতা চাকমা, প্রত্যাশা চাকমা ও সুকর্ণা দে। ‘চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি ভাষার গানের কথায় দেশাত্মবোধক গান এবং চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী জুম নৃত্য’ পরিবেশন করে নৃত্যশিল্পী রিয়া চাকমা, রুবিনা চাকমা, রেশমি চাকমা, জেনিয়া চাকমা, হেলী চাকমা, সুফিয়া চাকমা, মেমাচিং মারমা, প্রমিস চাকমা, সাচিং মারমা, রূপান্তর চাকমা ও সমর বিজয় চাকমা।

এ ছাড়া একাডেমি প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হয় সজল কান্তি সরকারের রচনা ও গৌতম কর তপনের নির্দেশনায় এবং একতা নাট্য সংস্থার পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ধামাইল পালা ‘রাই কিশোরী’। যন্ত্রে সহযোগিতা করেছেন কপির ঋষি, কৌশল দাস বিজন এবং সোহেল রানা। গত ৩ জানুয়ারি একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj