রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা : মুক্তিযুদ্ধে জিয়া কোথাও যুদ্ধ করেনি, শুধু ষড়যন্ত্র করেছে

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় সরকারি দলের সাংসদরা বলেছেন, জিয়াউর রহমান কোথাও যুদ্ধ করেননি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় খুনি মোশতাকের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ফরিদুল হক খান, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোসলেম উদ্দিন ও এ কে এম ফজলুল হক এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে সম্প্রতি মিজানুর রহমান আজহারী ও তারেক মনোয়ার নামক দুজন ব্যক্তির যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষ নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে দেয়া হুমকির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, প্রকাশ্য আদালতে রাজাকার সাঈদীর বিচার হয়েছে, বিচারে তার শাস্তি হয়েছে। এখন কিছু লোক হুমকি দিয়ে বলছে, ঘরে ঘরে সাঈদী বেরিয়ে আসবে। একজন বলছে, এটা এখন তীরধনুকের যুগ না, এখন একে ফোরটি সেভেনের যুগ। এটি প্রছন্ন নয়, প্রকাশ্য হুমকি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলায় বিএনপির সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেনারেল জিয়া কখনোই স্বাধীনতার ঘোষক নয়, একজন পাঠক মাত্র। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান কোথায় যুদ্ধ করেছে? একটা জায়গা বিএনপির নেতারা দেখাক। সে কোথাও যুদ্ধ করেনি, শুধু ষড়যন্ত্র করেছে খুনি মোশতাকের সঙ্গে। শেষের দিকে মুজিবনগর সরকারের কাছে ষড়যন্ত্র ধরা পড়ার পর মোশতাককে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়। আর জিয়াউর রহমানকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস।

সরকারি দলের অপর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বিএনপিতে দুটি ধারা। এক রাজনৈতিক, অপরটি হচ্ছে বাণিজ্যিক। বাণিজ্যিক ধারার নেতৃত্ব দেন বর্তমানে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাগারে সাজাভোগ করা খালেদা জিয়া ও দুর্নীতি করে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানরা। আর রাজনৈতিক ধারায় রয়েছে বিভিন্ন দল থেকে আসা দলছুট নেতারা। এদের দিয়ে দেশের কোনোদিন উন্নতি হয়নি, হবেও না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই, সরকার কেন তা বন্ধ করতে পারছে না? ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকরা ৬ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, আর তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে পৌনে দুই লাখ টাকা। এদের অধিকাংশই অবৈধভাবে টাকা পাচার করে বিদেশে পালিয়ে গেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারা সত্যিই দুঃখজনক।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী চুন্নু বলেন, ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতিও হচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল, কিন্তু কেন তা বন্ধ করা হলো জানি না। ক্যাসিনো কর্মকাণ্ড কী শুধু রাজনীতিবিদরা করেছে? এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত নেই? শুধু যুবলীগের স¤্রাট জড়িত, অন্য কেউ জড়িত নেই? জড়িত যেই হোক সবাইকে ধরতে হবে।

শুধু রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা হয়। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বড় বড় বাড়িগুলোর মধ্যে কয়টি রাজনীতিবিদের, আর কতগুলো আমলা-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের- সেই হিসাব নেয়া হোক। তা দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। শুধু আমরা রাজনীতিবিদরা জেলে যাব, প্রশাসনের জড়িতরা জেলে যাবে না- এটা হতে পারে না।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj