শীতের কবিতারা

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

অমিত গোস্বামী

বাঙালির শীতবিলাস হারিয়ে গেছে বেশ দ্রুতই। গ্লোবাল ওয়ার্মিং নাকি গ্লোবাল ভিলেজের লেটেস্ট সংস্করণগুলোর প্রভাবে, তা জানি না। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই শীতের ছবি পোস্ট করে। কখনো শীতের দেশের ছবি, কখনো গ্রাম-বাংলার শীতের ছবি। দেখা যায় ‘কুয়াশার মধ্যে এক শিশু যায় ভোরের ইস্কুলে, নিথর দীঘির পারে বসে আছে বক’ (যদি নির্বাসন দাও; সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)। শীতের এক অসাধারণ চিত্রকল্প। কিন্তু শীত বেশ জাঁকিয়ে পড়লেই তার বর্ণনায় বাঙালি অকৃপণ হন কবিতার পঙ্ক্তিকে উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে। শীত বর্ণনায় কবিতা কেন? গানও তো আছে। রবি ঠাকুরের ‘শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আম?লকীর এই ডালে ডালে। পাতাগুলো শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে\’ থেকে হালফিলের অনুপম রায়ের ‘আরো শীত চুয়ে পড়ুক গাছের পাতার তলায়/ আরো শীত ছড়িয়ে যাক তোর কথা বলায়,/ আরো শীত বাক্সবন্দি কিছু ইচ্ছে আছে/ আরো শীত লেপ তোষকমোড়া আমার কাছে।’ গানই তো আছে। তবে কবিতা কেন? উত্তরটা খুব ভালো দিয়েছিলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়- ‘শীতের যে লালিত্য আছে যে নমনীয়তা আছে বা যে পেলবতা আছে তাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে কবিতা। সুরসংযোজন সার্থক বসন্তকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে।’ কাজেই শীতের সাথে মিলেমিশে গেছে কবিতা।

শীত আগে পড়ত তুমুল তীব্রতায়। কিন্তু কবিতায় শীতবন্দনার সূত্রপাত অনেক পরে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ। রূপকের আশ্রয়ে বৌদ্ধ সহজিয়াগণের কল্পনায় তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন চিত্রের প্রতিফলন থাকলেও শীতের অবস্থা ও প্রভাবের কোনো উল্লেখ নেই। বৈষ্ণব পদাবলিতে শীত এসেছে রাধার অভিসার-অনুষঙ্গে। শীত এখানে যত না আনন্দের অনুষঙ্গ, তারচেয়ে অনেক বেশি বেদনার শোকগাথা।

বাঙালির হাজার বছরের দুঃখের কথাই যেন ফুল্লরার মুখ দিয়ে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (আনুমানিক ১৫৪০-১৬০০) প্রকাশ করেছেন, নিচের কবিতাংশে শীতের অনুষঙ্গে- ‘কার্তিক মাসেতে হয় হিমের প্রকাশ।/যগজনে করে শীত নিবারণ বাস/নিযুক্ত করিল বিধি সভার কাপড়।/অভাগী ফুল্লরা পরে হরিণের ছড়,’ [(মুকুন্দরাম চক্রবর্তী/‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’]। মধ্যযুগের একজন খ্যাতিমান কবি আলাওলের (১৬০৭-১৬৮০) কাব্যে শীত রোমান্টিক আবহে নর-নারীর প্রেম ও মিলনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বিধৃত হয়েছে। কবির কাব্য পঙ্ক্তিতে সে কথারই প্রতিধ্বনি ফুটে উঠেছে ‘সহজ দম্পতি মাঝে শীতের সোহাগে।/হেমাকান্তি দুই অঙ্গ এক হইয়া লাগে/পুষ্পশয্যা ভেদগুলো বিচিত্র বসন।/ওরে ওরে এক হইলে শীত নিবারণ।’ [‘ষট্-ঋতু-বর্ণন’ ‘পদ্মাবতী’]। যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) শীতকালকে দেখেছেন ‘সর্বনাশী’ হিসেবে। ‘তব প্রতি পূরক নিঃশ্বাস আকষিছে দুর্নিবার টানে/মৃত্যুভয়ভীতি সর্বজনে তব বক্ষ গহŸর পানে।/…শীত ভয়ংকর!’

এ কথা সত্যি যে, আগে শীত মানুষের কাছে ততটা উপভোগ্য ছিল না। তার মূল কারণ এই যে আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে আবরণের আধিক্যের অভাব। দিন কয়েক কাটিয়ে দিতে পারলেই হলো। ইচ্ছে ও চেষ্টা কোনোটাই ছিল না এই শীতবস্ত্র লাভের। যেটুকু ছিল তা ধনীদের মধ্যেই। এই কথাটি আধুনিক যুগের প্রারম্ভের কবি ঈশ্বর গুপ্তের (১৮১২-১৯৫৯) কবিতায় ফুটে উঠেছে ‘বসনে ঢাকিয়া দেহ গড়ি মোরা আছি।/উহু উহু প্রাণ যায় শীত গেলে বাঁচি/হাসিয়া নাগর কহে, খোল প্রাণ মুখ।/শীত-ভীত হায় এত ভাব কেন দুখ/ছয় ঋতু মধ্যে শীত করে তব হিত।/হিতকর দোষী হয় একি বিপরীত।’ [‘মালিনী নায়িকার মানভঙ্গ’ ‘কাব্য কানন’]। শীতের বহুমাত্রিক রূপ অঙ্কিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) হাতে। শীত ঋতু নিয়ে তার অজস্র কবিতা রয়েছে, যা জীবন ঘনিষ্ঠতায় জীবনের বিচিত্র অনুষঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ব্যঞ্জনায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে। তার দর্শন ও অনুধাবন কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে ‘ডেকেছো আজি এসেছি সাজি, হে মোর লীলাগুরু/শীতের সাথে তোমার সাথে কী খেলা হবে শুরু।/ভাবিয়াছিনু গতিবিহীন/গোধূলি ছায়ে হল বিলীন/পরাণ সম, হিমে-মলিন আড়ালে তারে হেরি-/এমন ক্ষণে কোন গগনে বাজিল তব ভেরি?/উত্তরায় কারে জাগায় কে বুঝে তার বাণী-/অন্ধকারে কুঞ্জদ্বারে বেড়ায় কর খানি।’ [‘উদ্বোধন’ ‘বনবাণী’]। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) দৃষ্টিতে শীত মোটেই সুখকর নয়। শীতের আগমনে পৌষ তার অনুভবে কবিতায় ব্যঞ্জিত হয়ে উঠেছে- ‘পউষ এলো গো-/এক বছরের শ্রান্তি পথের কালের আয়ুক্ষয়,/পাকা ধানের বিদায় ঋতু, নতুন আসার ভয়।/পউষ এলো গো! পউষ এলো-/শুকনো নিঃশ্বাস, কাঁদন-ভারাতুর/বিদায় ক্ষণের, (আ-হ) ভাঙ্গা গলার সুর-/ওঠ পথিক! যাবে অনেক দূর/কালো চোখের করুণ চাওয়া দাঁড়ায়ে।’ [‘পউষ’ ‘দোলন-চাঁপা’]

তিরিশোত্তর আধুনিক বাংলা কাব্যের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)। তার মগ্নচৈতন্যে উপমা অলংকারের সাযুজ্যে শীত মৃত্যুর মতো জীবনের সামনে সমাসীন হয়। কবি মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করেছেন শীত ঋতুর শাখাচ্যুত পাতা, ঝরেপড়া নিশির প্রগাঢ় শিশির আলো-আঁধারের সন্ধিক্ষণে পেঁচার আকুতির অন্তর্জাত উপলব্ধিতে। এ সময়ে চারদিকে আবৃত কুয়াশার অন্ধকারে কবি জীবনের উচ্ছ¡াস প্রত্যক্ষ করলেও হিমশীতের প্রগাঢ়তায় কেবলই শূন্যতা ও রিক্ততার প্রতিচ্ছবিই কবির চোখে দৃশ্যমান। কবির উপলব্ধিতে ‘এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;/বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে কিংবা পাতা,/কিংবা পেঁচার গান; সেও শিশিরের মতো হলুদ পাতার মতো।/… … …/চারদিককার আবছায়া-সমুদ্রের ভিতর জীবনকে স্মরণ করতে গিয়ে মৃত মাছের পুচ্ছের শৈবালে,/অন্ধকার জলে, কুয়াশার পঞ্জরে হারিয়ে যায় সব।’ [‘শীতরাত’ ‘মহাপৃথিবী’] প্রকৃতি ও নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাশ ‘শীতরাত’ ছাড়াও ‘শীতের রাতের কবিতা’, ‘সে এক শীত’, ‘শীত শেষ’, ‘এইসব শীতের রাত’, ‘শীতের কুয়াশা-মাঠে’, কিংবা ‘শীতের সকাল’ সর্বত্রই একধরনের নির্জনতা প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলার প্রকৃতিতে শীতের উপস্থিতি ও তার প্রভাব বিষয়ে অনন্য অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের (১৮৯৯-১৯৭৬) কাব্যভূমে পরিলক্ষিত হয়। উত্তরের হিমশীতল বায়ে শ্যামল বাংলার প্রকৃতি রুক্ষতার রূপ ধারণ করে। গাছের পাতা ঝরে যায়। পল্লবহীন বৃক্ষ যেন আভরণ পরিত্যাগ করে ধ্যানী তাপসীর মূর্তি ধারণ করে। কবির চোখে পল্লব শূন্যবৃক্ষ যেন ধ্যানমগ্ন মুনি-ঋষির মতো ঠায় দাঁড়িয়ে কোনো কিছুর একনিষ্ঠ প্রত্যাশায়- ‘তবু কি তাহার সময় হইবে হেথায় চরণ ধরি,/মোর কুঁড়েঘর দিয়ে যাবে হায়, মনি-মানিকেতে ভরি।/সে কি ওই চরে দাঁড়ায়ে দেখিবে বর্ষার তরুগুলি,/শীতের তাপসী কারে যা স্মরিছে আভরণ গায় খুলি!/হয়তো দেখিবে হয় দেখিবে না; কাল সে আসিবে চরে,/এপারে আমার ভাঙ্গা ঘরখানি, আমি থাকি সেই ঘরে।’ [‘কাল সে আসিবে’ ‘বালুচর’]

কবি বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) তার কলমে শীত চিত্রিত করেছেন তাকে ডাইনী উপমা দিয়ে- ‘বাইরে বরফের রাত্রি। ডাইনি হাওয়ার কনকনে চাবুক/ গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়,/ চাঁদটাকে কাগজের মতো টুকরো করে/ ছিটিয়ে দেয় কুয়াশার মধ্যে, উপড়ে আনে আকাশ, হিংসুক/ হাতে ছড়িয়ে দেয় হিম; শাদা, নরম, নাচের মতো অক্ষরে/পৃথিবীতে মৃত্যুর ছবি এঁকে যায়।’ [শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর/শীতরাত্রির প্রার্থনা/বুদ্ধদেব বসু]। সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) শ্রেণি সংগ্রামের কবি। তাঁর ভাবনায় নিঃসর্গের চেয়ে জনজীবন প্রাধান্য পাবে এমনটাই স্বাভাবিক। সুকান্ত শীতে দরিদ্রের কষ্ট দেখেছেন, দেখেছেন পথের ছেলেগুলোর জন্য শীত কতটা যাতনাময়, কতটা বিভীষিকাময়। গরিবদের শীত নিবারণের জন্য সূর্যই হয়ে দাঁড়ায় উষ্ণতার অবলম্বন। সেই সূর্যের প্রতি সুকান্তের আহ্বান- ‘হে সূর্য!/তুমি আমাদের স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে/উত্তাপ আর আলো দিও/আর উত্তাপ দিও/রাস্তার ধারের ওই উলঙ্গ ছেলেটাকে।’ [‘প্রার্থী’ ‘ছাড়পত্র’]

শীতের উষ্ণতার কথা ভাবলেই প্রেমাস্পদকে কাছে পাওয়ার বাসনায় আনচান করে ওঠে মন। প্রেমাস্পদের কাছে পৌঁছতে হলে পোশাক-পরিচ্ছদে নিজেকে খানিকটা সাজিয়ে গুছিয়ে নিলে মন্দ হয় না; কবি শামসুর রাহমানের (১৯২৯-২০০৬) কবিতায় এমন একটা আবহ নির্মিত হয়েছে- ‘শেষ হয়ে আসা অক্টোবরে/ শীতের দুপুরে নিউ ইয়র্কের অরচার্ড স্ট্রিটে ঘুরে ঘুরে/একটি দোকান দেখি মায়াপুরী। দোকানি ওয়াল্ট ডিজনির/আশ্চর্য ডবল, বলা যায়। দিলেন পরিয়ে গায়ে/স্মিত হেসে সহজ নৈপুণ্যে নীল একটি বেøজার।…’ [উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ/ শামসুর রাহমান]

শীতের কাছে মানুষ বড় বেশি অসহায়; তাইতো শীত থেকে বাঁচার জন্য কী যে সব প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। কবি আল মাহমুদের (১৯৩৬-২০১৯) উদ্বিগ্নতায় দেখি- ‘বাসি বাসনের মতো কারা যেন ধুয়ে দিল ঢাকার আকাশ/ ঈষৎ ডিটারজেন্টগন্ধী জানুয়ারি তোমারও কি শ্বাসকষ্ট/না শীত, না গরমের মজা ফেরি করে ভোরের বাতাস/ফেলে যাওয়া মাফলারে জানি লেগে আছে তোমার ছোঁয়া’ [জানুয়ারি দুহাজার/আল মাহমুদ]। কবি উনুনের তাপে শীত তাড়ালেও, শীতের কথা ভেবে কোনো এক কবি অকাতরে ভিক্ষা দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কী হতে পারে ভিক্ষা সামগ্রী? কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৪-১৯৯৫) যা বলেন- ‘রোদ্দুরের সঙ্গে কিছু ভিখারির শীতের আঙুল ভিক্ষা চায়/এখন নিরন্ন ঘরে তাকে ভিক্ষা দেবো/হাতে গুঁজে দেব বুনো ভাং, শুকনো পাতা।’ [ভিক্ষা চায়/শক্তি চট্টোপাধ্যায়]। প্রেমিকার সঙ্গে মান-অভিমানের নানামাত্রিক পর্ব এগিয়ে যায় সামনের দিকে। উঠে আসে দ্বিধা, দীর্ণ হয় বুক, ছটফট করে প্রাণ। প্রণয়ের পরীক্ষাও কি দিতে হয় কখনো কখনো? সৈয়দ শামসুল হকের (১৯৩৫-২০১৬) কবিতায় তো তেমনই এক আকুতি লক্ষ করা যায় : ‘শীতের রোদ্দুরে শাড়ি আজ মেলে দেয়া-/ধূলি ধূসরিত পথ-নির্জন-আমি হেঁটেছি অনেক/কখনো থামিনি আর অবসন্ন বসেও পড়িনি,/তবে কেন সমুখে এসে মুখ তুলে তাকালে ক্ষণেক? (তবু বেঁচে থাকা অপরূপ)। শীতের প্রকৃতির স্বতন্ত্র একটি রূপও তো আছে যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২) আঁকেন তাঁর ‘একটি শীতের দৃশ্য’ কবিতায় : ‘মায়ামমতার মতো এখন শীতের রোদ/মাঠে শুয়ে আছে/আর কেউ নেই/ওরা সব ফিরে গেছে ঘরে/দু-একটি নিবারকণা খুঁটে খায় শালিকের ঝাঁক/ওপরে টহল দেয় গাংচিল, যেন প্রকৃতির কোতোয়াল।’

তবে শীত না আসাকেও যে কবিতায় ব্র্যান্ড করে নেয়া যায় তার প্রমাণ রেখেছেন কবি ভাস্কর চক্রবর্তী (১৯৪৫-২০০৫)। কবি ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে এক কবিতার বই প্রকাশ করেছিল। নাম- ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা?। সেখানে ফস করে লিখে ফেললেন- শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা/আমি তিন মাস ঘুমিয়ে থাকব/প্রতি সন্ধ্যায়/কে যেন ইয়ার্কি করে ব্যাঙের রক্ত/ঢুকিয়ে দেয় আমার শরীরে। এই কবিতা নিয়ে মুশকিলে পড়ে গেছেন যাদের নাম সুপর্ণা, তারা। শীত তো আজকাল পড়েই না। অথচ সুপর্ণাদের দেখলেই ছেলেবুড়ো সবার এক জিজ্ঞাসা- শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা?

বর্তমানের কবিদের মধ্যে শীত নিয়ে কবিতা লেখার প্রবণতা তুলনায় অনেক বেশি। কবি কামাল চৌধুরীর ‘এই শীতে’ কবিতার অন্তিম পর্বে এসে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যেখানে প্রশ্ন ও উত্তর একাকার হয়ে যায় : ‘তোর চোখে কুয়াশা হেনেছে বর্শা/কানটুপি ভেদ করে ঢুকে যায় তীব্র হু হু শীত।/আগুন জ্বেলেছে কারা? অস্পষ্ট আলোয় নড়ে ছায়া/খড় জ্বেলে মানুষরা বানিয়েছে আগুনের ছাদ/কুয়াশা মাথায় চেপে উড়ে আসে আলো কবুতর।/সামান্য আলোর নেশা, বেঁচে আছে শীতার্ত মানুষ।’ কবি শ্রীজাত তার ‘শীত-শীত’ কবিতায় বলছেন- তোমার মুঠোয় আবার এসেছে শীত।/হাতের পাতায় বরফের মিহি কুচি…/রঙিন নিশানে সাজিয়েছ পার্ক স্ট্রিট/এই তো সময়… জানলার কাচ মুছি।/দেখ নি তাহলে, শীতের কেমন শোভা/ওভারকোটের পকেটে কতটা ওম…/কথা ছুটে যায়… অথচ শহর বোবা/মানুষ কেবল যোগাযোগে সক্ষম।’ কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজ সচেতন কবিতা লেখেন। তিনি শীতের সাথে খেজুর গুড়ের রসগোল্লাকে মিলিয়েছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়- না, গুড়ের রসগোল্লা কিনতে পারি নি/পৌষ মাসে ‘বিয়ের অর্ডার আছে’ বলে/ ময়রা ফিরিয়ে দেয় আমায়। (গুড়ের রসগোল্লা)।

শীতের প্রেম হেঁটে বেড়ায় মাইলের পর মাইল, মনের আনন্দে। শহুরে হাওয়ায়, নীরব প্রেমের পথচলায় সঙ্গী হয় দূর থেকে ভেসে আসা আজানের সুর, কালীমন্দিরের আরতির ঘণ্টাধ্বনি যুগপৎভাবে। বেশ ঘন হয়ে ওঠে শহর। বড্ড গা ঘেঁষাঘেঁষি করে উচ্চারিত হয়- আধখোলা চুল বাকি টুপিতে ঢাকা/শীত মুখে এঁকে দিল শাখাপ্রশাখা/…/ তবু তো স্বপ্নশীত রিমি তোকে ডাকে/ একবার চুমু দিবি এই কবিতাকে?।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj